বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা থেকে ॥ বছরের পর বছর জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা আর বর্ষাকাল এলেই দুর্ভোগ—এ যেন আলমডাঙ্গা পৌরবাসীর নিত্যসঙ্গী। দীর্ঘদিনের সেই ভোগান্তির স্থায়ী সমাধানে আশার আলো জাগিয়েছে ফজলুল হক খাল পুনঃখননের উদ্যোগ। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় সরকারের ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সফল করতে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে উন্নয়ন ও সবুজায়নের বার্তা দিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক শরিফুজ্জামান শরিফ। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার পশুহাট থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ফজলুল হক খালের বিভিন্ন দখলকৃত অংশ পরিদর্শন করেন তিনি। খালটি পুনঃখননের মাধ্যমে পৌর এলাকার দীর্ঘদিনের পানি নিষ্কাশন সমস্যার স্থায়ী সমাধানের সম্ভাবনা ও প্রয়োজনীয়তা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শন শেষে জিকে সেচ প্রকল্পের সাত কপাট এলাকায় সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে অংশ নেন জেলা পরিষদ প্রশাসক শরিফুজ্জামান শরিফ। তিনি নিজ হাতে গাছের চারা রোপণ করে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “খাল শুধু পানি প্রবাহের পথ নয়, এটি একটি এলাকার পরিবেশ ও জনজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফজলুল হক খাল পুনঃখনন হলে আলমডাঙ্গা পৌরসভার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা অনেকাংশে দূর হবে। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” এসময় উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনুর আক্তার। এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালটি দখল ও ভরাট হওয়ার কারণে বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে পানি জমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। পৌরবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসনের এই সময়োপযোগী উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়িত হলে আলমডাঙ্গা জলাবদ্ধতার দীর্ঘদিনের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে এবং উন্নয়ন ও সবুজায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।


