এনএনবি : দেশের আকাশে আজ যদি ১৪৪৭ হিজরী সনের পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়, তাহলে পরদিন শুক্রবার সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্বির্যের মধ্যদিয়ে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। আর যদি না দেখা যায়, তাহলে তার পরদিন অর্থাৎ শনিবার ঈদ উদযাপিত হবে। সে অনুযায়ী, এক মাসের সিয়াম সাধনা শেষে উদযাপিত হবে ঈদুল ফিতর। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে রাজধানী ও এর আশাপাশ অঞ্চলে বসবাসকারী কর্মজীবী অগণিত নারী-পুরুষ গ্রামের বাড়ীতে ছুঁটছেন কয়েক দিন ধরে। ঈদকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে রাজধানী অনেকটা খালি হয়ে গেছে।
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় দুটো ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে একটি হচ্ছে ঈদুল ফিতর। অন্যটি হলো ঈদুল আযহা। ধর্মীয় পরিভাষায় একে ইয়াওমুল জায়েজ (অর্থ: পুরস্কারের দিবস) হিসাবেও বর্ণনা করা হয়েছে। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা ও সামর্থ্যবানদের ফিতরা ও যাকাত আদায়ের পর মুসলমানেরা এই দিনটি ধর্মীয় কর্তব্যপালনসহ আনন্দের সাথে পালন করে থাকেন। এই দিনে তারা একে অন্যকে “ঈদ মোবারক” বলে শুভেচ্ছা জানান। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই ঈদের দিন মুসলমানদের জন্য আনন্দ ও খুশির দিন। (আবু দাউদ)। ঈদের রাতে ও সকালবেলা তাকবির বলা সুন্নত। ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লহিল হামদ’।
এ মহান পুণ্যময় দিবসের উদযাপন শুরু হয় আজ থেকে প্রায় ১৪০০ বছর পূর্বে। ইসলামের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মদীনাতে হিজরত-এর অব্যবহিত পরেই ঈদুল ফিতর উৎসব পালন শুরু হয়। হযরত আনাস (রা.) বর্ণিত একটি হাদীস থেকে জানা যায়, নবী করিম (সা.) মদীনা আগমন করে দেখলেন মদীনাবাসীগণ দুই দিবসে আনন্দ-উল্লাস করে থাকে। মহানবী (সা.) জিজ্ঞাসা করলেন, এ দিবসদ্বয় কি? ওরা বললেন, জাহেলী যুগ থেকেই এ দুটি দিবসে আনন্দ-উল্লাস করে থাকি। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, “আল্লাহ তোমাদেরকে উক্ত দিবসদ্বয়ের পরিবর্তে উত্তম দুটি দিবস দান করেছেন। দিবসদ্বয় হলো ঈদুল আযহার দিবস ও ঈদুল ফিতরের দিবস। (সুনান আবূ দাউদ, কিতাবুল ঈদায়ন)।
রেওয়াজ অনুযায়ী, সউদী আরবে যেদিন ঈদ উদযাপিত হয়, তার পরদিন বাংলাদেশে ঈদ উদযাপিত হয়। আজ সন্ধ্যায় ১৪৪৭ হিজরী সনের পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা ও ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানীর ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় অনুষ্ঠিত হবে এই সভা। এই সভা থেকেই বাংলাদেশে ঈদ কবে উদযাপিত হবে, তা জানা যাবে।


