বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৩:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
সদ্যপ্রাপ্ত
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
শুভ নববর্ষ ১৪৩৩
/ ১৩৪৭ দেখা হয়েছে
বার : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২০ অপরাহ্ন

এনএনবি : আজ ১৪ এপ্রিল, পহেলা বৈশাখÑ বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ। এক অনন্য প্রাণোচ্ছলতা ও আবেগঘন আবহে প্রতি বছরের মতো এবারও এই দিনটি আমাদের হৃদয়ে এনেছে নতুনের প্রতিশ্রুতি, অতীতের গ্লানিমোচনের প্রত্যয়, আর আগামী দিনগুলোর জন্য এক আশাবাদী প্রত্যাশা। পহেলা বৈশাখ যেন প্রকৃতির রূপান্তরের প্রতীকÑ একটি রূপান্তর, যা কেবল ঋতুর নয়, বরং আমাদের মনোজগৎ, আমাদের সময় ও সমাজেরও। বৈশাখের অর্থই যেন নতুনকে বরণ করে নেওয়া, পুরাতন ক্ষত মুছে নতুন সম্ভাবনার পথে পা বাড়ানো। তাই তো কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর উচ্চারণ করেন: ‘মুছে যাক গ্লানি, মুছে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।’ এই আহ্বান কেবল ঋতু পরিবর্তনের নয়, এটা এক আত্মিক শুদ্ধির আহ্বান, এক সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের সংকেত। শুভ নববর্ষ ১৪৩৩। ‘দূরান্তের পলাতক বলাকার ঝাঁকে’ হারিয়ে গেল ১৪৩২। ‘আজি এ ঊষার পুণ্য লগনে’ বাঙালির কায়মনো প্রার্থনা : ‘যা কিছু ক্লেদ,গ্লানি পাপ মূঢ়তা, যা কিছু জীর্ণ-শীর্ণ-দীর্ণ, যা কিছু পুরাতন তা বৈশাখের রুদ্র দহনে পুড়ে হোক ছাই। বছরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক যাক।’ বর্ষবরণের উৎসবের আমেজে মুখরিত আজ বাংলার চারিদিক। আমরা যে বৃহৎ এক মহাসাগরের স্রোতের অংশ, বাংলার নববর্ষ তারও ইঙ্গিত দেয়। আবহমানকালের এত বছরের এই সাল এখন মিশে গেছে বাঙালির জাতিসত্তায়। বস্তুত, বাংলা নববর্ষ আমাদের মনে করে দেয়, আমরা এক বৃহত্তর ধারার অংশ। এটা এই বার্তা দেয় যে, আমরা আলাদা কেও নই। এটা বর্তমানে প্রাত্যহিক জীবনে কাজে লাগুক বা না লাগুক, এটা আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। আর এই ঐতিহ্যের মধ্যে আমাদের নিজেদের চিনতে পারব। আর নিজেকে চেনার মতো নিজেদের চেনাটাও জরুরি। নববর্ষ সেই চিনার কাজটি করে। আজ সরকারি ছুটির দিন। পত্র-পত্রিকা আজ প্রকাশ করেছে বিশেষ সংখ্যা। রেডিও-টেলিভিশনে প্রচারিত হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। সেই সঙ্গে আছে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নানা আয়োজন, ব্যবসায়ীদের হালখাতা। প্রতিবারই চারুকলা অনুষদ সমসাময়িক নানা বিষয় তুলে ধরে আয়োজন করে শোভাযাত্রা, যা নববর্ষ উদ্যাপনের অন্যতম অনুষঙ্গ। এবার নববর্ষ উদ্যাপন হবে ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ প্রতিপাদ্যে। নতুন বাংলা বছরের প্রথম সকালে যে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ হতে যাচ্ছে, তাতে গণতান্ত্রিক উত্তরণসহ পাঁচটি বিষয়ে থাকছে ভিন্ন ভিন্ন মোটিফ। এ শিল্পকর্মের মধ্যে থাকছেÑ মোরগ, হাতি, পায়রা, দোতারা ও ঘোড়া। এর মধ্যে মোরগ দিয়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণের কথা তুলে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন আজহারুল ইসলাম শেখ। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে গত ১৮ বছর এক ফ্যাসিবাদী শাসনতন্ত্রের মধ্যে ছিল। সেখান থেকে একটা গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এদেশ আবার গণতন্ত্রের দিকে যাত্রা করেছে। তাই যে নতুন ভোর, নতুন দেশ, নতুন গণতন্ত্রের সূর্য উদিত হয়েছে, তাকে শুভকামনা জানাতেই আমাদের প্রতীকী মোরগ। মোরগ যেমন আমাদেরকে প্রভাতে সূর্য উঠার আগে জাগিয়ে দিয়ে শুভ কামনা জানায়, আমরাও এ দেশে গণতন্ত্রের পুনরুত্থানকে শুভকামনা জানাই। আমরা চাই, এদেশে আমার ন্যায়বিচার ফিরে আসুক।”
শোভাযাত্রায় এবার দোতারার মোটিফ যুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম শেখ। তিনি বলেন, “আপনারা জানেন, সারা দেশে বাউলদের ওপর নানা হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমরা তার প্রতিবাদ জানাতে চাই। একই সঙ্গে এদেশে আমাদের যে লোক গান আছে, তা হারিয়ে যেতে বসেছে। সেই সংস্কৃতিকে জাগাতে আমাদের এ আয়োজন।” তাছাড়া শান্তির প্রতীক হিসেবে পায়রা, দেশীয় সংস্কৃতির নিদর্শন হিসেবে নারায়ণগঞ্জের লোকশিল্প জাদুঘরের কাঠের হাতি এবং কিশোরগঞ্জের টেপা আকৃতির ঘোড়া তুলে ধরতে চায় চারুকলা অনুষদ। কৃষির সঙ্গে বাংলা নববর্ষের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এই সন প্রবর্তনের সূচনা থেকেই। আদিকাল থেকে এই আধুনিক যুগ পর্যন্ত কৃষিকাজের সঙ্গে ঋতুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। চিরকাল ঋতুর ওপর ভিত্তি করেই হয় ফসলের চাষাবাদ। মোগল সম্রাট আকবর প্রচলন করেন বাংলা সনের। এর আগে মোগল বাদশাহগণ রাজকাজে ও নথিপত্রে ব্যবহার করতেন হিজরি সন। হিজরি চান্দ্র বছর, যা ৩৫৪ দিনে পূর্ণ হয়। কিন্তু সৌর বছর পূর্ণ হয় ৩৬৫ দিনে। বছরে প্রায় ১১ দিনের পার্থক্য হওয়ায় হিজরি সন আবর্তিত হয় এবং ৩৩ বছরের মাথায় সৌর বছরের তুলনায় এক বছর বৃদ্ধি পায়। ফসল উৎপাদনের ঋতুর ভিত্তিতে কৃষকের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করতে হলে সারা দেশে একটি অভিন্ন সৌর বছরের প্রয়োজন। এই ধারণা থেকেই সম্রাট আকবর ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দের ১০ বা ১১ মার্চ থেকে বাংলা সনের প্রবর্তন করেন এবং তা কার্যকর হয় তার সিংহাসন আরোহণের সময় অর্থাৎ ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ৫ নভেম্বর থেকে। আকবরের নবরতœ সভার আমির ফতেউল্লাহ খান সিরাজী বাংলা সন প্রবর্তনের কাজটি সম্পন্ন করেন। প্রথমে এই সনের নাম ছিল ফসলি সন। পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়। বৈশাখ নামটি নেওয়া হয়েছিল নক্ষত্র বিশাখার নাম থেকে।অতীতে বাংলা নববর্ষের মূল উৎসব ছিল হালখাতা। চিরাচরিত এ অনুষ্ঠানটি আজও পালিত হয়। ক্রমান্বয়ে নববর্ষের ব্যাপ্তি আরও বিস্তৃত হয়। রূপান্তরিত হয় লোকজ উৎসবে। কালের বিবর্তনে নববর্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত অনেক পুরোনো উৎসবের বিলুপ্তি ঘটেছে, আবার সংযোগ ঘটেছে, অনেক নতুন উৎসবের। ১৯৬৫ সাল থেকে রমনার বটমূলে প্রতি বছর ছায়ানট বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন শুরু করলে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানমালা নগরীতে নতুন তাৎপর্য পায়। এবারও বাংলা নববর্ষকে বরণের জন্য রমনা বটমূলে ছায়ানটের ‘এসো হে বৈশাখ’… অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকছে। একে একে আরও অনেক সংগঠন প্রতি বছর নিয়মিতভাবে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। আধুনিক জীবন-পদ্ধতির নানা উপাচারের সমারোহে খেরো খাতায় হিসাব রাখার প্রচলন এখন উঠেই গেছে। তবু বাঙালির চিরায়ত উৎসবের দিন পহেলা বৈশাখে আজ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হবে হালখাতা। মিষ্টি মুখ করানো হবে ক্রেতাদের। তমসা থেকে জ্যোতিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পটভূমিতে সূচনা হলো আরও একটি বর্ষযাত্রা।

 

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ
ফেসবুক পেজ