বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা থেকে ॥ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের চরের মাঠে জমিজমা ও গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের বিরোধ আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি করেছে। দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয় প্রতিদ্বন্দ্বী দুই পক্ষ। তবে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ও ওসমানপুর পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যদের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপে বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর গ্রামের ‘চেঙ্গিস গ্রুপ’ ও ‘সালাম গ্রুপ’-এর মধ্যে জমিজমা ও আধিপত্যকে কেন্দ্র করে প্রায় ৩০ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। অতীতে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে কয়েক দফা মীমাংসা বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ উভয় পক্ষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে মিষ্টিমুখের আয়োজন করা হলেও সেই সমঝোতা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য, পূর্বশত্রুতার জেরে উভয় পক্ষ ঢাল, তলোয়ার, লাঠি, সাংড়া ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চরের মাঠে জড়ো হয়। সংঘর্ষের প্রস্তুতির সময় বিপুলসংখ্যক নারীও লাঠি হাতে পুরুষদের পাশে অবস্থান নিতে দেখা যায়। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেন। সংঘর্ষের খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ও ওসমানপুর পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে না জড়িয়েই ধীরে ধীরে এলাকা ত্যাগ করে। ফলে সম্ভাব্য বড় ধরনের প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পায় কেশবপুর।এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা দ্রুত ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। আমাদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। উভয় পক্ষকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কেবল সাময়িক মীমাংসা নয়, বিরোধের স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। তাদের দাবি, এলাকায় চিরুনি অভিযান চালিয়ে অবৈধ ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার, সংঘর্ষে উসকানিদাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। প্রকাশ্য দিবালোকে শতাধিক মানুষের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের প্রস্তুতির ঘটনা কেশবপুরবাসীর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসনের কঠোর ও ধারাবাহিক পদক্ষেপের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই বিরোধের স্থায়ী সমাধান হবে এবং গ্রামে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসবে।


