মীর ফাহিম ফয়সাল, আলমডাঙ্গা থেকে ॥ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদি ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের একটি জামে মসজিদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের কমিটি-সংক্রান্ত বিরোধ ও আর্থিক হিসাবের জটিলতা শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষে গড়িয়েছে। জুমার নামাজের মতো পবিত্র মুহূর্তের পরপরই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা একপর্যায়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।শুক্রবার (৩ জুলাই ২০২৬) জুমার নামাজ শেষে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন—মারজুলের ছেলে আকাশ, নবালী ধনীর স্ত্রী উম্মি খাতুন এবং আবুল মন্ডলের ছেলে আরাফাত। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (হারদি হাসপাতাল) ভর্তি করেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লক্ষীপুর গ্রামের জামে মসজিদের বিদায়ী ক্যাশিয়ার শিমুল ইসলাম দায়িত্ব ছাড়ার সময় মসজিদের অনুদানের প্রায় ২০ হাজার টাকা জমা ছিল। বর্তমান কমিটির সভাপতি ওমর মালিথার কাছে ওই অর্থের হিসাব গত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চেয়ে আসছিল প্রতিপক্ষ আশরাফুল মন্ডল গ্রুপ। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েকদিন ধরেই উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডা চলছিল।প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালীনও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। নামাজ শেষে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে আশরাফুল, শিমুল ও পান্নার নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়। এতে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনজন আহত হন।ঘটনার খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।গ্রামবাসীর ভাষ্য, একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থের স্বচ্ছ হিসাব ও কমিটি পরিচালনা নিয়ে সৃষ্টি হওয়া বিরোধের এমন সহিংস পরিণতি অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


