বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
সদ্যপ্রাপ্ত
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
আলমডাঙ্গায় ভালোবাসার টানে প্রেমিকের বাড়ির গেটে এক সন্তানের জননীর বিয়ের দাবিতে অবস্থান
/ ৬২ দেখা হয়েছে
বার : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৮:১৭ অপরাহ্ন

আলমডাঙ্গা ব্যুুরো ॥ ভালোবাসার মানুষটির হাত ধরে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। সেই স্বপ্নের টানে একসময় ছেড়ে এসেছেন নিজের সংসার, হারিয়েছেন সামাজিক অবস্থান, সহ্য করেছেন নানান কটূক্তি। কিন্তু আজ সেই মানুষটির বাড়ির গেটের সামনে বসে আছেন অসহায়ের মতো। পাশে নেই কোনো স্বজন, নেই কোনো আশ্রয়। আছে শুধু বিয়ের দাবিতে শেষ লড়াই আর বুকভরা অভিমান। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমারী গ্রামে মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে এমনই হৃদয়স্পর্শী একটি ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাসলিমা (৩৩) নামের এক সন্তানের জননী প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নিয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে আত্মহত্যারও হুমকি দিয়েছেন তিনি। সরেজমিনে দেখা যায়, কালো বোরকা পরিহিত তাসলিমা প্রেমিক আব্দুল্লাহর বাড়ির গেটের সামনে বসে আছেন। আশপাশে উৎসুক জনতার ভিড়। নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী—অনেকেই ঘটনাটি দেখতে সেখানে জড়ো হয়েছেন। তবে বাড়ির ভেতরে প্রেমিকের পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকেই তাসলিমা ওই বাড়ির সামনে অবস্থান করছেন। তার একটাই দাবি—আব্দুল্লাহকে তাকে বিয়ে করতে হবে। অন্যথায় তিনি বিষপান করে আত্মহত্যা করবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন। জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের পারকুলা গ্রামের বাসিন্দা তাসলিমার সঙ্গে একই উপজেলার কুমারী গ্রামের মহরম কাজল মৌরির ছেলে আব্দুল্লাহর পরিচয় হয় প্রায় এক বছর আগে। পরিচয় থেকে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হলে দুই পরিবার থেকেই আপত্তি আসে। কিন্তু তাতেও থেমে থাকেননি তারা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন স্থানে তারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়েও ঘোরাফেরা করেছেন। তাসলিমার দাবি, আব্দুল্লাহ তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। সেই আশ্বাসে তিনি আগের সংসারও ছেড়ে দেন। কিন্তু সম্প্রতি আব্দুল্লাহ তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তাসলিমা বলেন, “আমি তাকে বিশ্বাস করে আমার আগের সংসার ছেড়েছি। সে আমাকে বিয়ের কথা বলে অনেক স্বপ্ন দেখিয়েছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সময়ে আমার কাছ থেকে টাকা-পয়সাও নিয়েছে। এখন সে আমাকে চিনতেই চাইছে না। আমি তার বাড়িতে এসেছি আমার ন্যায্য অধিকার চাইতে। সে আমাকে বিয়ে না করলে আমার বেঁচে থাকার কোনো অর্থ নেই।” এক সন্তানের মায়ের এমন আকুতি উপস্থিত অনেককেই আবেগাপ্লুত করেছে। কেউ তাকে সান্ত্বনা দিয়েছেন, কেউ আবার বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান চেয়েছেন। এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—যদি সত্যিই বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়ে থাকে, তবে সেই প্রতিশ্রুতির দায় কে নেবে? ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আলমডাঙ্গা থানা সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভালোবাসা, বিশ্বাস আর প্রতিশ্রুতির এই গল্প এখন দাঁড়িয়ে আছে এক অনিশ্চিত পরিণতির সামনে। প্রেমিকের বাড়ির গেটের সামনে বসে থাকা তাসলিমার চোখে এখনো হয়তো একটুখানি আশার আলো জ্বলছে—হয়তো দরজাটি খুলবে, হয়তো ফিরে আসবে সেই মানুষটি, যার জন্য তিনি হারিয়েছেন জীবনের অনেক কিছু।

 

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ
ফেসবুক পেজ