আলমডাঙ্গা ব্যুরো ॥ একদিকে তীবাত গরম, অন্যদিকে বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা। শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই বিদ্যুতের ওপর চাপ বাড়ছে প্রতিদিন। এমন বাস্তবতায় সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে এবং জাতীয় সম্পদের অপচয় রোধে কঠোর অবস্থানে নেমেছে আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে এবার সরাসরি মাঠে নেমেছেন জনাব শাহীনুর আক্তার। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে সচেতনতামূলক অভিযান ও মনিটরিং কার্যক্রম। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলমডাঙ্গা শহরের ব্যবসায়ীদের সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আলমডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন সড়ক, মার্কেট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ইউএনও জনাব শাহীনুর আক্তার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ শুধু একটি সুবিধা নয়, এটি জাতীয় সম্পদ। অপ্রয়োজনীয় আলো জ্বালিয়ে রাখা কিংবা নির্ধারিত সময়ের পর দোকান খোলা রাখা দেশের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।” অভিযান চলাকালে দেখা যায়, প্রশাসনের এই উদ্যোগকে অনেক ব্যবসায়ী ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। কেউ কেউ বলেন, দেশের স্বার্থে সামান্য ত্যাগ স্বীকার করতেই হবে। কারণ বিদ্যুৎ সাশ্রয় মানেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ জ্বালানি নিশ্চিত করা। শহরের সাধারণ মানুষের মাঝেও এ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, শুধু প্রশাসনের অভিযান নয়, বরং প্রতিটি পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল আচরণই পারে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখতে। আলমডাঙ্গার প্রবীণ এক ব্যবসায়ী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আগে আমরা ভাবতাম দোকান একটু বেশি সময় খোলা রাখলে লাভ বেশি হবে। কিন্তু এখন বুঝি, দেশের ক্ষতি করে ব্যক্তিগত লাভের কোনো মূল্য নেই।” এদিকে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শুধু নির্দেশনা দিয়েই দায়িত্ব শেষ নয়; নিয়মিত মনিটরিং অব্যাহত থাকবে। যারা সরকারি নির্দেশনা অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি এবং দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তুলতেই প্রশাসনের এই উদ্যোগ—এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল। তাদের ভাষায়, বিদ্যুৎ সাশ্রয় আজ কেবল সরকারি নির্দেশ নয়, এটি সময়ের দাবি, দেশের প্রতি নাগরিক দায়িত্বেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


