বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা থেকে ॥ মানুষের পাশে দাঁড়াতে জনপ্রতিনিধি হওয়াই যে একমাত্র শর্ত নয়— সেই বার্তাই যেন নতুন করে তুলে ধরলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপি নেতা, প্রবাসী ব্যবসায়ী ও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হাসিবুল হক লিপু। এখনো মেয়রের দায়িত্ব পাননি, কিন্তু পৌরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে দায়িত্বশীল একজন অভিভাবকের মতোই মাঠে নেমেছেন তিনি। পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আলমডাঙ্গা শহরের দীর্ঘদিনের ভয়াবহ যানজট পরিস্থিতি যখন সাধারণ মানুষের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই ব্যক্তি উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দিয়ে ব্যতিক্রমী এক জনসেবামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেন হাসিবুল হক লিপু। সোমবার (২৫ মে) আলমডাঙ্গা হাইরোড এলাকায় তাঁর উদ্যোগে পরিচালিত যানজট নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা। ঈদের কেনাকাটা, যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ এবং মানুষের উপচে পড়া ভিড়ে যখন পুরো শহর প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল, তখন স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় উপস্থিতিতে কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে দেখা যায় সাধারণ মানুষকে। জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে তিন দিনের জন্য ব্যক্তি উদ্যোগে ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। তারা দুই শিফটে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ব্যস্ত সড়কে দায়িত্ব পালন করছেন। যানজট নিয়ন্ত্রণ, পথচারীদের চলাচল সহজ করা এবং যানবাহনের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই তাদের এই কার্যক্রম।শুধু সড়ক ব্যবস্থাপনাতেই নয়, জনসেবার আরও কিছু মানবিক উদ্যোগ নিয়েও প্রশংসা কুড়িয়েছেন হাসিবুল হক লিপু। আলমডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতের বেলায় অতিরিক্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থাও করেছেন তিনি। দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীরা তাঁর এই উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।স্থানীয়দের ভাষ্য, বছরের পর বছর যানজট সমস্যায় চরম ভোগান্তি পোহালেও ব্যক্তি উদ্যোগে এভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কাউকে আগে দেখা যায়নি। ফলে হাসিবুল হক লিপুর এমন মানবিক ও জনবান্ধব কার্যক্রম সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ বিষয়ে হাসিবুল হক লিপু বলেন, “শহরের সড়কের বিশৃঙ্খল অবস্থা পৌরবাসীর জন্য এক ধরনের যন্ত্রণার নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঈদের সময় মানুষের ভিড় ও যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অন্তত এই সময়ে মানুষ যেন কিছুটা স্বস্তিতে চলাচল করতে পারে, সেই চিন্তা থেকেই ব্যক্তি উদ্যোগে এই কার্যক্রম হাতে নিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, “আমি আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে একজন মেয়র প্রার্থী। একজন মেয়রের দায়িত্ব শুধু নির্বাচনের সময় মানুষের কাছে যাওয়া নয়, বরং মানুষের প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানো। আমি আমার অবস্থান থেকে পৌরবাসীর সেবায় কাজ করার চেষ্টা করছি। নির্বাচিত হই বা না হই, মানুষের জন্য আমার কাজ চলমান থাকবে।”আলমডাঙ্গার সাধারণ মানুষের চোখে তাই এই উদ্যোগ কেবল রাজনৈতিক প্রচারণা নয়, বরং নাগরিক দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবেই দেখা দিচ্ছে।


