বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা থেকে ॥ ঈদ মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা। সেই আনন্দকে আরও অর্থবহ করে তুলতে আলমডাঙ্গা পৌর শহরের ৪০টি মসজিদের ১৬০ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব ও খাদেমের হাতে ঈদের শুভেচ্ছা উপহার তুলে দিয়েছেন আলমডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ও সমাজসেবক হাসিবুল হক লিপু। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নেওয়া এই মানবিক উদ্যোগে ধর্মীয় ব্যক্তিদের মুখে ফুটে ওঠে প্রশান্তির হাসি। অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “উপহারের মূল্য বড় নয়, আমাদের সম্মান দিয়ে স্মরণ করাটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া।” জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই সমাজের বিভিন্ন মানবিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন প্রবাসী ব্যবসায়ী ও চ্যানেল ডি.ও নিউজের চেয়ারম্যান হাসিবুল হক লিপু। তিনি উপজেলা বিএনপির প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক এবং জেলা যুবদলের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক সহ-সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ঈদের আগে ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত মানুষদের সম্মান জানাতে তিনি এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করেন। লিপুর সমর্থকরা জানান, সমাজে নৈতিকতা, মানবিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত রাখতে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব ও খাদেমদের ভূমিকা অপরিসীম। অথচ সীমিত আয়ের কারণে অনেক সময় ঈদের আনন্দ তাদের পরিবারে পূর্ণতা পায় না। সেই অনুভূতি থেকেই তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন হাসিবুল হক লিপু। এ বিষয়ে হাসিবুল হক লিপু বলেন, “ইমাম-মুয়াজ্জিনগণ সমাজের অত্যন্ত সম্মানিত মানুষ। তারা মানুষকে নৈতিকতা ও কল্যাণের পথ দেখান। ঈদের এই আনন্দঘন সময়ে আমার সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। এটি কোনো দান নয়, বরং তাদের প্রতি আমার সম্মান ও ভালোবাসার ক্ষুদ্র প্রকাশ।” তিনি আরও বলেন, “আমি সকলের কাছে নিজের ও পরিবারের জন্য দোয়া কামনা করছি। মহান আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে মানবিক সমাজ গঠনে একসঙ্গে কাজ করার তৌফিক দান করেন।” উপহার পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মসজিদ সংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষায়, সমাজে অনেকেই বড় বড় কথা বলেন, কিন্তু খুব কম মানুষই নীরবে সম্মান নিয়ে পাশে দাঁড়ান। এই উদ্যোগ তাদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। স্থানীয় সচেতন মহলও এই আয়োজনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের মতে, ঈদকে ঘিরে ধর্মীয় ব্যক্তিদের সম্মান জানানোর এমন উদ্যোগ সমাজে সৌহার্দ্য, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ আরও শক্তিশালী করবে। আলমডাঙ্গার মানুষের কাছে তাই এবারের ঈদের আগে এই আয়োজন শুধু উপহার বিতরণ নয়, বরং ভালোবাসা, সম্মান ও মানবিকতার এক অনন্য বার্তা হয়ে উঠেছে।


