বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা থেকে ॥ দীর্ঘ ১৬ বছরের কর্মজীবন। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে অফিস পরিষ্কার করা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য চা তৈরি, ছোটখাটো নানা দায়িত্ব সামলে রাখাই ছিল রেবেকা খাতুনের নিত্যদিনের কাজ। সেই অফিসেই এখন তার অভিযোগ—তাকে গলা চেপে ধরে মারধর করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে আলমডাঙ্গাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র আলোচনা ও নানা প্রশ্ন। আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার বাবুপাড়ায় অবস্থিত টিএমএসএস এনজিওর স্থানীয় শাখা অফিসে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন শাখা ব্যবস্থাপক শেখ আল-আমিন। তবে ঘটনাকে ঘিরে উভয় পক্ষই থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছে। জানা গেছে, পৌর এলাকার এক্সচেঞ্জপাড়ার বাসিন্দা রেবেকা খাতুন দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর ধরে টিএমএসএসের আলমডাঙ্গা শাখায় আয়া হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্বামী মোশারফ হোসেনের সংসারে তিনি ছিলেন অন্যতম উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার দাবি, দেড় বছর আগে শেখ আল-আমিন ম্যানেজার হিসেবে যোগদানের পর থেকেই অফিসের পরিবেশে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। রেবেকার অভিযোগ, অফিসে বিভিন্ন অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড চললেও চাকরি হারানোর ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেতেন না। কেউ প্রতিবাদ করলেই চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হতো বলেও দাবি তার। তিনি জানান, সম্প্রতি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অফিস পরিদর্শনে এলে তাকে বলা হয়, সাবেক সদস্য তানিয়া নামের এক নারীর ডিপিএসের টাকা ম্যানেজার খরচ করে ফেলেছেন—এমন বক্তব্য দিতে। কিন্তু তিনি মিথ্যা বলতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর থেকেই তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই তাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয় বলেও দাবি তার। রেবেকা খাতুন আরও বলেন, পরবর্তীতে তাকে অফিসে হাজির হওয়ার জন্য দুটি নোটিশ পাঠানো হয়। বুধবার সকালে তিনি অফিসে গিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন এবং গত এপ্রিল মাসের বেতন দাবি করেন। এ সময় ম্যানেজার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ তার। তার ভাষায়, “আমি শুধু আমার পাওনা বেতন চাইছিলাম। তখন আমাকে গালিগালাজ করা হয়। পরে অফিসের আরও দুজন মিলে আমার গলা চেপে ধরে মারধর করে। এরপর রাস্তায় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। আবার অফিসে গেলে মেরে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয়।”


