আলমডাঙ্গা ব্যুরো ॥ ব্যস্ত শহরের কোলাহল, মানুষের দৌড়ঝাঁপ আর জীবিকার কঠিন বাস্তবতার মাঝেও প্রতিদিন অসংখ্য অবহেলিত প্রাণী নীরবে লড়াই করে যাচ্ছে বেঁচে থাকার জন্য। রাস্তার ধারে ক্ষুধার্ত চোখে তাকিয়ে থাকা কুকুর কিংবা বিড়ালগুলো যেন আমাদের মানবিকতার দোরগোড়ায় প্রতিনিয়ত কড়া নাড়ে। অথচ সামান্য একটু সহানুভূতি আর প্রতিদিন মাত্র ১০ টাকার একটি ছোট উদ্যোগই বদলে দিতে পারে তাদের একটি দিনের গল্প। “জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ যুব সংস্থা” এমনই এক মানবিক বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে সাধারণ মানুষের মাঝে। সংগঠনটির মতে, প্রতিদিনের আয় যদি ১০০০ টাকা হয়, তবে তার মাত্র ১ শতাংশ—অর্থাৎ ১০ টাকা খরচ করলেই একটি ক্ষুধার্ত প্রাণীর মুখে খাবার তুলে দেওয়া সম্ভব। এমনকি কারও আয় ৫০০ টাকা হলেও সেই ১০ টাকা তার নাগালের বাইরের কিছু নয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিদিন মাত্র একটি রুটি কিংবা সামান্য খাবার কিনে রাস্তার কোনো ক্ষুধার্ত কুকুর বা বিড়ালকে খাওয়ানো যেতে পারে। মাস শেষে যার খরচ দাঁড়ায় মাত্র ৩০০ টাকা। কিন্তু এর বিনিময়ে যে ভালোবাসা, মায়া, দোয়া ও মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যায়, তা কোনো অর্থমূল্যে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। পথপ্রাণীদের প্রতি সহানুভূতি দেখানো শুধু মানবিক দায়িত্বই নয়, এটি প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষারও একটি অংশ বলে মনে করছেন সচেতন মহল। কারণ মানুষ ও প্রাণীর সহাবস্থানই একটি সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলে। সংগঠনটির সদস্যরা জানান, “আমাদের কাছে ১০ টাকা হয়তো খুব ছোট একটি অঙ্ক, কিন্তু একটি ক্ষুধার্ত প্রাণীর কাছে সেটিই হতে পারে একবেলা খাবার, বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয়। ছোট ছোট এই মানবিক কাজগুলোই একদিন সমাজে বড় পরিবর্তন আনবে।”তারা আরও বলেন, একদিন নিজের হাতে কোনো পথপ্রাণীকে খাবার খাইয়ে দেখলেই বোঝা যাবে—একটি প্রাণীর তৃপ্ত চোখে তাকানোর অনুভূতি কতটা গভীর মানসিক শান্তি এনে দেয়। মানবিক সমাজ গঠনে এমন ছোট ছোট উদ্যোগই হতে পারে বড় প্রেরণা। কারণ পৃথিবী শুধু মানুষের জন্য নয়, সকল প্রাণের জন্যই সমানভাবে বাসযোগ্য হওয়া উচিত।


