আলমডাঙ্গা ব্যুরো ॥ ফিফা বিশ্বকাপ শুধু একটি ফুটবল আসর নয়, এটি কোটি কোটি মানুষের আবেগ, ভালোবাসা আর স্বপ্নের নাম। সেই বিশ্বকাপের আবহকে ঘিরেই চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোবিন্দপুরে দেখা গেল এক ব্যতিক্রমী আয়োজন। ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬-এ অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দেশের প্রতি সম্মান জানিয়ে গোবিন্দপুর একাদশ স্পোর্টিং ক্লাব আয়োজন করে ৪৮ দলের মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট। আর উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এই ব্যতিক্রমী ক্রীড়াযজ্ঞ। গোবিন্দপুর জে.এন. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সন্ধ্যা নামতেই যেন নেমে আসে এক টুকরো বিশ্বকাপের আমেজ। মাঠজুড়ে দর্শকদের উচ্ছ্বাস, খেলোয়াড়দের প্রাণবন্ত লড়াই আর করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বিশ্বকাপের মূল ফাইনাল শুরুর আগেই নিজেদের এই “মিনি বিশ্বকাপ” শেষ করে আয়োজকরা যেন ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সৃষ্টি করেন এক অনন্য আনন্দঘন মুহূর্ত। তবে এই টুর্নামেন্টের লক্ষ্য ছিল শুধুই ফুটবল নয়। খেলার মাধ্যমে তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখা, সুস্থ সমাজ গঠন এবং একদিন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখতে চাওয়ার স্বপ্নও ছিল এই আয়োজনের মূল প্রেরণা। আয়োজকদের ভাষায়, “খেলার মাঠ ভরলে, মাদকমুক্ত হবে সমাজ; স্বপ্ন দেখবে নতুন প্রজন্ম।” বিশ্বকাপের আদলে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে অংশ নেয় ৪৮টি দল। শুরু থেকেই প্রতিটি ম্যাচ ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ফাইনালেও দুই দলের দারুণ লড়াই দর্শকদের মুগ্ধ করে। মাঠের চারপাশে শত শত ক্রীড়াপ্রেমীর উপস্থিতি প্রমাণ করে—গ্রামবাংলায় ফুটবলের আবেদন আজও কতটা গভীর। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন আলমডাঙ্গা পৌরসভার সাবেক ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও গোবিন্দপুর স্পোর্টিং ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ডালিম। উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম ও মজিবুর মাস্টার। ফাইনাল ম্যাচে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ বশিরুল আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মীর ফাহিম ফয়সাল, সাংগঠনিক সম্পাদক জাফর জুয়েল, আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ শাহরিয়ার শরীফসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। খেলাধুলা শুধু শরীরকে নয়, মন ও সমাজকেও সুস্থ রাখে। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের ব্যতিক্রমী আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। গোবিন্দপুরের এই ছোট্ট মাঠে আয়োজিত ৪৮ দলের মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিল—স্বপ্নের কোনো সীমানা নেই। গ্রামবাংলার মাঠ থেকেই জন্ম নিতে পারে আগামীর তারকা, আর ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাই একদিন হয়তো বাংলাদেশকে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে পৌঁছে দেওয়ার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।


