মীর ফাহিম ফয়সাল, আলমডাঙ্গা থেকে ॥ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে সাংগঠনিক পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। দলীয় ও রাজনৈতিক একাধিক সূত্র জানিয়েছে, উপজেলা জামায়াতের আমির শফিউল আলম বকুলকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বিষয়ে জেলা কিংবা কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত ঘোষণা প্রকাশ করা হয়নি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শফিউল আলম বকুল আলমডাঙ্গা মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক নীতিমালায় নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত পুরুষ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে ওই নীতিমালা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আলমডাঙ্গা উপজেলা আমিরের দায়িত্ব থেকেও তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।দলটির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, এটি কোনো ব্যক্তিগত, শাস্তিমূলক বা সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত সিদ্ধান্ত নয়। বরং দলীয় গঠনতন্ত্রের বিধান বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই নীতিমালার আওতায় দেশের আরও কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতার ক্ষেত্রেও অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্র আরও জানায়, ভবিষ্যতে শফিউল আলম বকুল সংশ্লিষ্ট চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়ে দলীয় গঠনতন্ত্রে বর্ণিত শর্ত পূরণ করলে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুনরায় সাংগঠনিক দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। এদিকে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ এটিকে দলীয় নীতিমালার স্বাভাবিক বাস্তবায়ন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার কারণে এমন সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।তবে শফিউল আলম বকুলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও অব্যাহতির কারণ ব্যাখ্যা করে কোনো পূর্ণাঙ্গ লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। দলীয় ও রাজনৈতিক সূত্রে আরও জানা গেছে, আগামী ১৬ জুলাই উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমিরের নাম ঘোষণা করা হতে পারে। সূত্রগুলোর দাবি, বর্তমান নায়েবে আমির মো. ইউসুফ আলী ভারপ্রাপ্ত আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। পরবর্তীতে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী রোকনদের ভোটের মাধ্যমে উপজেলা আমির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এসব তথ্যেরও এখনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ মেলেনি।
উল্লেখ্য, বিষয়টি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি কোনো সরকারি আইন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা বা রাষ্ট্রীয় চাকরিবিধির বিষয় নয়; বরং দলটির নিজস্ব গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক নীতিমালার আলোকে গৃহীত একটি সাংগঠনিক ব্যবস্থা বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। ফলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নেতৃত্ব পরিবর্তন সংক্রান্ত সব তথ্যই দলীয় সূত্রনির্ভর হিসেবে বিবেচিত হবে।


