বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা থেকে ॥ মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সংগ্রামগুলোর একটি হলো ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াই। একবেলা খাবারের অভাবে যখন অসংখ্য মানুষ কষ্টে দিন কাটান, তখন সেই ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা শহরের পরিচিত ব্যবসায়ী, ময়ূরী বেকারি, ঢাকা বইঘর ও ময়ূরী ফাস্টফুডের স্বত্বাধিকারী ওয়াজেদ আলী কচি। তাঁর কাছে ব্যবসার লাভই শেষ কথা নয়; মানুষের মুখের হাসিই তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।নিজের ব্যবসার লাভের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় করে তিনি প্রতিদিন প্রায় ২০০ অসহায়, দরিদ্র ও ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন। শুধু খাদ্য সহায়তাই নয়, অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসা, বস্ত্রসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তাও নিয়মিত প্রদান করে আসছেন তিনি। কোনো প্রচারের আলোয় আসার চেষ্টা নয়, বরং মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই বছরের পর বছর ধরে চালিয়ে যাচ্ছেন এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে বিভিন্ন এলাকার অসহায় মানুষ তাঁর উদ্যোগে খাবার গ্রহণ করেন। কেউ বয়সের ভারে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন, কেউ পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা, আবার কেউ জীবিকার অভাবে অনাহারে দিন কাটান। তাদের কাছে এই একবেলার খাবার শুধু আহার নয়, নতুন করে বেঁচে থাকার শক্তি ও আশার প্রতীক। এই মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন আলমডাঙ্গা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি সামর্থ্যবান মানুষ যদি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অন্তত একজন ক্ষুধার্ত মানুষের দায়িত্ব নেন, তাহলে সমাজে অভুক্ত মানুষের সংখ্যা অনেকটাই কমে আসবে। মানবিক সমাজ গঠনে এমন উদ্যোগের বিকল্প নেই। স্থানীয়দের মতে, বর্তমান সময়ে যখন অনেকেই ব্যক্তিস্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত, তখন ওয়াজেদ আলী কচির মতো মানুষ সমাজে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। সীমিত সামর্থ্য নিয়েও যে অসংখ্য মানুষের মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব, তিনি সেটিই প্রমাণ করেছেন। সমাজসেবীদের অভিমত, এমন উদ্যোগ শুধু ক্ষুধার্ত মানুষের পেট ভরায় না; বরং সমাজে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চাকে আরও শক্তিশালী করে। তাঁদের বিশ্বাস, ওয়াজেদ আলী কচির এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে মানবসেবায় উদ্বুদ্ধ করবে এবং সমাজের আরও বিত্তবান মানুষকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করবে।সভ্য সমাজ গঠনে বড় বড় প্রতিশ্রুতির প্রয়োজন হয় না; প্রয়োজন একটি উদার ও মানবিক হৃদয়ের। সেই হৃদয়ের শক্তিতেই প্রতিদিন নীরবে শত শত মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিয়ে মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন ওয়াজেদ আলী কচি। তাঁর এই মহৎ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সমাজের জন্য অনুকরণীয়, আর মানবতার ইতিহাসে এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা।


