আলমডাঙ্গা ব্যুরো ॥ পরিবেশ রক্ষা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, নির্মল ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার প্রত্যয়ে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাড়গাড়ী গ্রামে ব্যতিক্রমী এক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় যুবসমাজের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হাড়গাড়ী যুব ক্রীড়া ও উন্নয়ন সংঘ-এর উদ্যোগে শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ১০টায় হাড়গাড়ী কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির শতাধিক বৃক্ষ রোপণ করা হয়। সংগঠনের সভাপতি আরাফাত রহমান-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষক, চিকিৎসক, সমাজসেবক ও তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। শুধু গাছ লাগানোই নয়, পরিবেশ সংরক্ষণে সামাজিক দায়বদ্ধতা সৃষ্টি এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে সবুজের প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তোলাই ছিল আয়োজনের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাড়গাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান, পল্লী চিকিৎসক ডা. ফখরুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও বিশিষ্ট নজরুল গবেষক আইয়ুব হোসেন, জমিদাতাদের অন্যতম আজিজুর রহমান ও তহিবুল মালিতা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ডা. লিয়াকত আলী, শাফায়েত হোসেন, মশিউর রহমান, সোহাগ আবেদীন, সংগঠনের সভাপতি আরাফাত রহমান, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং গ্রামের একদল উদ্যমী তরুণ। বৃক্ষরোপণ শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সভাপতি আরাফাত রহমান বলেন, “এই বৃক্ষরোপণ শুধু আমাদের গ্রামের জন্য নয়, সমগ্র পৃথিবীর পরিবেশ রক্ষার একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস। আসুন, আমরা সবাই বেশি বেশি গাছ লাগাই এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যাই।” সংগঠনের উপদেষ্টা ডা. লিয়াকত আলী বলেন, “গাছ আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই প্রত্যেকের উচিত অন্তত একটি করে গাছ লাগানো এবং তা পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়া। সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই গড়ে উঠবে একটি সবুজ ও সুন্দর বাংলাদেশ।”উপদেষ্টা শাফায়েত হোসেন এবং পুলিশ সদস্য জয়নুল আবেদীন সোহাগ বলেন, “একটি সুন্দর খেলার মাঠের পাশাপাশি সবুজ ও মনোরম পরিবেশও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সেই পরিবেশ গড়ে তোলার একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।”কর্মসূচিতে আরও অংশ নেন শাওন, সাব্বির, আকাশ, আলামিন, নোমান, সজীব, জুয়েল, তামিম, মুনজু, মিরাজ, হাবিবসহ এলাকার অসংখ্য তরুণ। আয়োজকদের মতে, এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুধু পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখবে না; বরং তরুণ সমাজের মধ্যে প্রকৃতিপ্রেম, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের আগ্রহও বাড়াবে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে হাড়গাড়ী একসময় সবুজে ঘেরা একটি আদর্শ গ্রামে পরিণত হবে।


