আলমডাঙ্গা প্রতিনিধি ॥ ঠিক এক বছর আগে, ২০২৫ সালের এই দিনটিতেই আলমডাঙ্গার ইতিহাসে যুক্ত হয়েছিল এক গৌরবময় অধ্যায়। দীর্ঘদিনের দাবি, আন্দোলন, অসংখ্য মানুষের নিরলস প্রচেষ্টা এবং সম্মিলিত প্রত্যাশার বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেন আলমডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনে প্রথমবারের মতো যাত্রাবিরতি শুরু করে। সেই আনন্দঘন মুহূর্তের আজ প্রথম বর্ষপূর্তি।৩ জুলাই ২০২৫—দিনটি ছিল আলমডাঙ্গাবাসীর জন্য উৎসবের দিন। সকাল থেকেই রেলস্টেশনজুড়ে ছিল মানুষের ঢল। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত হয়ে ফুল, করতালি আর উচ্ছ্বাসে বরণ করে নিয়েছিলেন প্রিয় ট্রেনটিকে। ট্রেনের হুইসেলের সঙ্গে যেন মিলেমিশে গিয়েছিল একটি জনপদের বহু বছরের স্বপ্নপূরণের আনন্দধ্বনি। এই যাত্রাবিরতি কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্জন নয়; এটি ছিল আলমডাঙ্গার মানুষের ঐক্য, ভালোবাসা এবং অবিচল দাবির বিজয়। অনেকেই নেপথ্যে থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, দিয়েছেন সময়, শ্রম ও প্রেরণা। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই আজ আলমডাঙ্গার মানুষ সহজে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পেয়েছেন। গত এক বছরে বেনাপোল এক্সপ্রেসের এই যাত্রাবিরতি শুধু যাত্রীসেবাই বাড়ায়নি, বরং শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কর্মজীবনের নানা প্রয়োজনে আলমডাঙ্গার মানুষের চলাচলকে করেছে আরও সহজ ও গতিশীল। স্থানীয়দের মতে, এই অর্জন জনপদের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।প্রথম বর্ষপূর্তিতে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে সেইসব মানুষকে, যাঁদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, দূরদর্শিতা ও একাগ্রতায় এই দাবি বাস্তবে রূপ পেয়েছে। পাশাপাশি যেসব সংগঠন, প্রতিষ্ঠান এবং সচেতন নাগরিক এ উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, তাঁদের প্রতিও জানানো হচ্ছে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা ও অভিনন্দন। বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, ট্রেনের পরিচালক, চালক এবং সেবার সঙ্গে জড়িত সকলের প্রতিও আলমডাঙ্গাবাসীর পক্ষ থেকে রইল আন্তরিক শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। তাঁদের সহযোগিতাতেই একটি জনপদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাস্তবতার মুখ দেখেছে। প্রথম বর্ষপূর্তির এই দিনে আলমডাঙ্গাবাসীর একটাই প্রত্যাশা—উন্নয়নের এই যাত্রা যেন আরও বেগবান হয়। রেলসেবার আরও সম্প্রসারণ, নতুন সুযোগ-সুবিধা এবং জনবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে আলমডাঙ্গা এগিয়ে যাক উন্নয়নের আরও নতুন দিগন্তে। ভালো কাজে যুক্ত ছিল যারা, তাদের প্রতি রইল আন্তরিক অভিনন্দন। আলমডাঙ্গার উন্নয়নের পথচলায় গড়ে উঠুক ঐক্যের এক অটুট বন্ধন।


