বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা থেকে ॥ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার প্রাণকেন্দ্রে যেন চুরির ঘটনা এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরকারি বাসভবনের অদূরেই গভীর রাতে একটি চিড়ার মিলে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের দাবি, মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত আনুমানিক ১টা থেকে ৩টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত কয়েক সপ্তাহে একই এলাকায় একের পর এক চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষ চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এক্সচেঞ্জপাড়া থেকে বিদ্যুতের তার ও পানির মোটর চুরি হয়েছে। কয়েকদিন আগে সিভিল সার্জনের বাসভবন ও আয়েশা পার্ক ক্লিনিকের বিপরীত পাশ থেকে একটি ভ্যান চুরি হয়। একই দিনে একটি প্রতিষ্ঠানের ক্যাশবক্স ভেঙে নগদ টাকাও নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব ঘটনা ঘটছে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও প্রধান সড়কসংলগ্ন এলাকায়। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী,বাসিন্দা ও পথচারীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দৃশ্যমান না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। তাঁদের মতে, অপরাধীরা বারবার একই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েও পার পেয়ে যাওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।সচেতন মহল বলছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়ন, নিয়মিত টহল বৃদ্ধি, সন্দেহভাজন অপরাধীদের শনাক্ত এবং সিসিটিভি নজরদারি জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় মানুষের নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে।তবে তারা একই সঙ্গে মনে করিয়ে দেন, কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া সমাধান নয়। সম্প্রতি আলমডাঙ্গায় চোর সন্দেহে একজনকে গণপিটুনিতে নিহত হওয়ার ঘটনা দেখিয়েছে, জনরোষ ও বিচারবহির্ভূত পদক্ষেপ কত ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তাই অপরাধ দমনে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকার পাশাপাশি জনসচেতনতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করাও জরুরি। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে অপরাধীরা আইনের আওতায় আসে এবং সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে বসবাস ও ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।


