আলমডাঙ্গা ব্যুরো ॥ ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সঞ্চয়ের নামে অর্থ গ্রহণের পর প্রতিশ্রুত ঋণ না দিয়ে দায় এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা টিএমএসএস শাখার ম্যানেজার এস কে আলামিন হোসেন ও সংশ্লিষ্ট মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় টাকা ফেরত ও দোষীদের বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার এক গৃহবধূ। অভিযোগকারী মোছাঃ তানিয়া খাতুন, স্বামী মোঃ কাজল আলী, গ্রামের নাম নতুন সুতাইল, ডাকঘর পাইকপাড়া, উপজেলা মিরপুর, জেলা কুষ্টিয়া। তিনি অভিযোগে জানান, গত ২০ আগস্ট ২০২৫ তারিখে তাকে ৪ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দেন টিএমএসএসের আলমডাঙ্গা শাখার ম্যানেজার এস কে আলামিন হোসেন এবং মাঠকর্মী মোছাঃ তানিয়া খাতুন। ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, ঋণ অনুমোদনের শর্ত হিসেবে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে পূর্বের ঋণের নীল বাবদ ৮ হাজার টাকা কেটে রেখে বাকি ৪২ হাজার টাকা সঞ্চয় হিসেবে জমা নেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, তার নিজ বাড়িতে গিয়ে ম্যানেজার এস কে আলামিন হোসেনের নির্দেশনায় মাঠকর্মী মোছাঃ তানিয়া খাতুন উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে নগদ অর্থ গ্রহণ করেন। তানিয়া খাতুন জানান, তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে ম্যানেজার তদন্ত শেষে অল্প সময়ের মধ্যেই ৪ লাখ টাকার ঋণ প্রদান করা হবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও ঋণের কোনো অগ্রগতি হয়নি। পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি কোনো সহযোগিতা পাননি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আলমডাঙ্গা টিএমএসএস শাখার ম্যানেজার এস কে আলামিন হোসেন ও মাঠকর্মী নিয়মিত আমাদের বাড়িতে এসে কিস্তি আদায় করতেন। কিন্তু এখন টাকা ফেরত চাইলে তারা দায়ভার নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। অথচ তাদের কথাতেই আমি কষ্টের জমানো টাকা দিয়েছিলাম।”কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, “আমরা নিম্নআয়ের মানুষ। সংসারের নানা কষ্ট সহ্য করে এই টাকা জমিয়েছিলাম। ঋণের আশায় টাকা দেওয়ার পর আজ আমি সর্বস্বান্ত। আমার পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। আমি আমার কষ্টার্জিত ৪২ হাজার টাকা ফেরত চাই এবং যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”লিখিত অভিযোগে তিনি দাবি করেন, টিএমএসএসের নাম ব্যবহার করে যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে থাকেন, তাহলে প্রতিষ্ঠানও এ দায় এড়িয়ে যেতে পারে না। তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ভুক্তভোগীর অর্থ ফেরত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।


