বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা থেকে ॥ দীর্ঘদিন ধরে সন্ধ্যা নামলেই নেমে আসত একরাশ অন্ধকার। পথচারীদের মনে থাকত ভয়, অভিভাবকদের চোখে থাকত শঙ্কা। রাতের বেলায় চলাচল ছিল দুরূহ, আর অন্ধকারকে ঘিরে নানা ধরনের অপরাধের আশঙ্কা ছিল নিত্যসঙ্গী। অবশেষে সেই অন্ধকারের অবসান ঘটেছে। আলমডাঙ্গা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বন্ডবিল হাজরাতলা এলাকায় জ্বলে উঠেছে সড়ক বাতি, ফিরেছে স্বস্তি আর নিরাপত্তার অনুভূতি।আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী হাসিবুল হক লিপু তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে নিজস্ব অর্থায়নে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে রোডলাইট স্থাপন করেছেন। এতে বহুদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেয়ে আনন্দে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি গণসংযোগকালে হাসিবুল হক লিপু বন্ডবিল এলাকায় গেলে তাঁরা অন্ধকারাচ্ছন্ন সড়কের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে রাতের বেলায় নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষের চলাচলে যে চরম সমস্যা সৃষ্টি হতো, সে বিষয়টি তাঁকে অবহিত করা হয়। মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে তিনি দ্রুত সড়ক বাতি স্থাপনের আশ্বাস দেন। সেই আশ্বাসই বাস্তবে রূপ নেয় মঙ্গলবার। তাঁর নির্দেশনায় ও ব্যক্তিগত অর্থায়নে হাজরাতলা এলাকার বিভিন্ন স্থানে সড়ক বাতি স্থাপন করা হয়। সন্ধ্যা নামতেই যখন একে একে জ্বলে ওঠে বাতিগুলো, তখন যেন পুরো এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে নতুন আশার আলো।স্থানীয় বাসিন্দাদের চোখেমুখে ছিল স্বস্তির ছাপ। একজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “রাতে এই রাস্তা দিয়ে চলতে ভয় লাগত। বিশেষ করে শিশু ও নারীদের জন্য খুব কষ্ট হতো। আজ আলো জ্বলে উঠেছে, মনে হচ্ছে আমাদের কষ্টের কথা কেউ একজন সত্যিই শুনেছে।”আরেকজন বাসিন্দা বলেন, “প্রতিশ্রুতি অনেকেই দেন, কিন্তু সবাই রাখেন না। লিপু সাহেব কথা দিয়ে কথা রেখেছেন। আমরা এখন অনেক নিরাপদ বোধ করছি।” সড়ক বাতি স্থাপনের পুরো কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন হাসিবুল হক লিপুর সমর্থক গোষ্ঠীর নেতাকর্মীরা। তারা জানান, মানুষের সমস্যাকে নিজের সমস্যা মনে করেই লিপু কাজ করে যাচ্ছেন। জনগণের কল্যাণে তাঁর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।এলাকাবাসীর বিশ্বাস, শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়ে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আলমডাঙ্গার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন হাসিবুল হক লিপু। বন্ডবিল হাজরাতলার মানুষের কাছে তাই এই সড়ক বাতি শুধু কয়েকটি বৈদ্যুতিক বাতি নয়; এটি দীর্ঘদিনের অবহেলার অন্ধকার ভেদ করে নতুন আশা, নিরাপত্তা ও স্বস্তির প্রতীক।


