বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা থেকে ॥“কৃষিই সমৃদ্ধি” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বিসিআইসি ও বিএডিসির সার ডিলারদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকদের কাছে মানসম্মত সার সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং সার বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার (১৬ জুন ২০২৬) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়। উপজেলা কৃষি অফিস, আলমডাঙ্গার উদ্যোগে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীনুর আক্তার।প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “দেশের অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ উন্নয়নের মূল ভিত্তি হলো কৃষি। কৃষকদের সময়মতো এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডিলারদের দায়িত্বশীল ও আন্তরিক ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মজুদদারি কিংবা অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার মাসুদ হোসেন পলাশ। তিনি কৃষি খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সুষম সার প্রয়োগের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে কৃষকদের সচেতন করার পাশাপাশি সার ডিলারদেরও কৃষিবান্ধব মনোভাব নিয়ে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সভায় বিসিআইসি ডিলার সমিতির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন অর রশিদসহ বিসিআইসি ও বিএডিসির আওতাভুক্ত বিভিন্ন সার ডিলার অংশগ্রহণ করেন। তারা মাঠপর্যায়ে সার সরবরাহ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিতরণসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা, চাহিদা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। এ সময় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ডিলারদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং সরকারের কৃষি সহায়ক কর্মসূচি, সার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ও কৃষকবান্ধব উদ্যোগসমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। মতবিনিময় সভায় কৃষি উন্নয়ন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণে সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অংশগ্রহণকারী ডিলাররা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের নিয়মিত মতবিনিময় সভা কৃষি খাতের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি কৃষকদের কাছে সময়মতো প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সভা শেষে কৃষির টেকসই উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকবান্ধব সেবা সম্প্রসারণে সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


