বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা থেকে ॥ দেশজুড়ে চলমান তীব্র তাপদাহ যেন আগুন ঝরাচ্ছে জনজীবনে। সেই দাবদাহের নির্মম ছোঁয়া লেগেছে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গাতেও। প্রখর রোদ, ভ্যাপসা গরম আর উত্তপ্ত বাতাসে যেন হাঁসফাঁস করছে পুরো জনপদ। বিশেষ করে জীবিকার তাগিদে রাস্তায় বের হওয়া রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের কষ্ট যেন সীমাহীন হয়ে উঠেছে। দুপুরের তপ্ত রোদে যখন পিচঢালা সড়ক থেকে আগুনের হলকা উঠছিল, ঠিক তখনই আলমডাঙ্গা শহরের আলিফউদ্দীন মোড়ে দেখা গেল এক ভিন্ন দৃশ্য। ক্লান্ত ও তৃষ্ণার্ত মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ঠান্ডা ও পুষ্টিকর শরবতের গ্লাস। আর এই ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগের পেছনে ছিলেন আলমডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী হাসিবুল হক (লিপু)। শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, নিজ হাতে সাধারণ মানুষের মাঝে শরবত বিতরণ করতে দেখা যায় তাঁকে। রিকশাচালক, ভ্যানচালক, শ্রমিক ও পথচারীদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি যেন বুঝিয়ে দিলেন—মানুষের পাশে থাকাই প্রকৃত রাজনীতি। তীব্র গরমে হঠাৎ ঠান্ডা শরবত পেয়ে স্বস্তির হাসি ফুটে ওঠে মানুষের মুখে। অনেকের চোখেমুখে ছিল কৃতজ্ঞতার ছাপ। শরবত পান শেষে এক ভ্যানচালক আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “এই চড়া রোদে ভ্যান চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তৃষ্ণায় বুক ফেটে যাচ্ছিল। লিপু ভাইয়ের এই ঠান্ডা শরবত খেয়ে প্রাণটা জুড়ালো। আল্লাহ ওনার মঙ্গল করুক।” স্থানীয়দের মতে, প্রচণ্ড তাপদাহের এই সময়ে এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। কারণ অনেকেই রাজনৈতিক কর্মসূচি করলেও সাধারণ মানুষের কষ্টকে উপলব্ধি করে এমন মানবিক উদ্যোগ খুব কমই দেখা যায়। এ বিষয়ে মেয়র পদপ্রার্থী হাসিবুল হক (লিপু) বলেন, “আলমডাঙ্গায় এখন প্রচণ্ড তাপদাহ চলছে। এই তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন আমাদের শ্রমজীবী ও সাধারণ মেহনতি মানুষ। সমাজের একজন নাগরিক হিসেবে এই সংকটে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমার দায়িত্ব। রাজনীতির মূল লক্ষ্যই হলো মানুষের সেবা করা। সামান্য এই ঠান্ডা শরবত বিতরণের মাধ্যমে যদি তাদের কিছুটা স্বস্তি দেওয়া যায়, সেটাই আমার সার্থকতা। ভবিষ্যতেও আলমডাঙ্গাবাসীর যেকোনো প্রয়োজনে আমি পাশে থাকব, ইনশাআল্লাহ।”অনুষ্ঠান চলাকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল মানবিকতার এক উজ্জ্বল চিত্র। টতীব্র দাবদাহে যখন মানুষ একফোঁটা স্বস্তির খোঁজে ছুটছে, তখন এমন উদ্যোগ যেন শুধু শরবত বিতরণ নয়—এটি ছিল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক হৃদয়ছোঁয়া


