বশিরুল আলম ,আলমডাঙ্গা থেকে ॥ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কালিদাসপুর ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও কালিদাসপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি বাবলু মিয়াকে ঘিরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ব্যাপক সক্রিয়তা ও ঐক্যের বার্তা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনী প্রস্তুতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেল পাঁচটায় ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘদিন পর দলীয় কার্যালয়ে এমন প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যেও দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। সভাকে কেন্দ্র করে বিকেল থেকেই কালিদাসপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে জড়ো হতে থাকেন। পুরো কার্যালয়জুড়ে ছিল নির্বাচনী আমেজ ও রাজনৈতিক উচ্ছ্বাস। অনেকেই মনে করছেন, এ আয়োজন ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক শক্তিকে আরও সুসংহত করবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আইনাল হক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “দলের মূল শক্তি হচ্ছে তৃণমূল নেতাকর্মী। জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপিকে শক্ত অবস্থানে নিতে হবে। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণের পাশে থেকে কাজ করাই সবচেয়ে বড় রাজনীতি। যারা মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকবে, জনগণ শেষ পর্যন্ত তাদের পক্ষেই রায় দেবে। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক টুটুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কামাল হোসেন, উপজেলা জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান, বিএনপি নেতা ফজলে এলাহি, ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল সর্দার, ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জিল্লুর রহমানসহ ইউনিয়ন বিএনপি, ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। বক্তারা বলেন, বাবলু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তার একটি ইতিবাচক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। নেতাকর্মীরা আরও বলেন, ইউনিয়নের উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অধিকার আদায়ে একজন পরিচ্ছন্ন, সৎ ও জনবান্ধব নেতৃত্ব প্রয়োজন। বাবলু মিয়া সেই যোগ্যতা ও নেতৃত্বগুণ ধারণ করেন বলেই তৃণমূল নেতাকর্মীরা তাকে আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দেখতে চান। প্রস্তুতি সভায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রতিটি ওয়ার্ডে গণসংযোগ বৃদ্ধি, নতুন ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন, তরুণদের সম্পৃক্তকরণ এবং ইউনিয়নের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে পরিকল্পনা গ্রহণ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বিশেষ করে রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, কৃষি ও শিক্ষাখাতে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মত দেন তারা। এ অবস্থায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণে যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবলু মিয়া তার বক্তব্যে বলেন, “আমি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা নিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। একটি আধুনিক, মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও উন্নত ইউনিয়ন গড়ে তোলাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।” তিনি আরও বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্য এবং জনগণের সমর্থন থাকলে আগামী দিনে ইউনিয়নে উন্নয়নের নতুন ধারা সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। সভা শেষে নেতাকর্মীদের মাঝে আগামী নির্বাচনকে ঘিরে নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাবলু মিয়াকে ঘিরে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে।


