বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) থেকে ॥ রমজানের পবিত্র আবহে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় অবস্থিত মারকাযুল উলূম মাদ্রাসায় আয়োজন করা হয় এক আবেগঘন ইফতার ও দোয়া মাহফিল। বিকেলের শেষ আলো যখন ধীরে ধীরে নিভে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই একঝাঁক ‘কোরআনের পাখি’—মাদ্রাসার দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর কণ্ঠে দোয়া ও তিলাওয়াতের সুরে মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই ইফতার মাহফিলে অংশ নেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সাদামাটা আয়োজন হলেও আন্তরিকতা আর ভালোবাসায় ভরপুর ছিল পুরো পরিবেশ। ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের হাসিমাখা মুখ, হাতে ইফতারের প্যাকেট আর হৃদয়ে কোরআনের আলো—সব মিলিয়ে যেন এক অনন্য দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অত্র মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আব্বাস উদ্দীন সাহেব। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, রমজান আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। কোরআনের শিক্ষায় আলোকিত হয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ বশিরুল আলম, জাহাঙ্গীর আলম, তৌহিদ হাসান, তামজিদ হাসান আবির, রাব্বি, সায়মুম আরাফাত স্বপ্নিল, সাব্বির ও রতনসহ মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। ইফতারের আগে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়। দোয়া মাহফিলে ফিলিস্তিনসহ বিশ্বব্যাপী নির্যাতিত মুসলমানদের জন্যও প্রার্থনা করা হয়। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একসঙ্গে ইফতারে অংশ নিয়ে অতিথিরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অনেকেই বলেন, কোরআনের পাখিদের সঙ্গে বসে ইফতার করার অনুভূতি সত্যিই অনন্য—এ যেন আত্মার প্রশান্তির এক বিশেষ মুহূর্ত। স্থানীয়দের মতে, এমন আয়োজন শুধু ইফতার মাহফিল নয়; এটি সমাজে ধর্মীয় মূল্যবোধ, ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। রমজানের এই পবিত্র সন্ধ্যায় আলমডাঙ্গা মারকাযুল উলূম মাদ্রাসা যেন হয়ে উঠেছিল ভালোবাসা, আধ্যাত্মিকতা ও মানবিকতার এক মিলনমেলা।


