বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) থেকে ॥ দীর্ঘ সতেরো বছর ধরে সিন্ডিকেট ও দালাল চক্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা হাট-বাজার ও বিভিন্ন স্থাপনা অবশেষে মুক্ত হলো। প্রশাসনিক দৃঢ়তা ও স্বচ্ছতার প্রত্যয়ে আলমডাঙ্গা পৌরসভা নতুন ইতিহাস গড়েছে। পৌরসভার প্রশাসক পান্না আক্তারের উদ্যোগে হাট-বাজার ও স্থাপনাসমূহ উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে ইজারা প্রদান করা হয়েছে—যেখানে ছিল না কোনো গোপন চুক্তি, ছিল না কোনো প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের চাপ। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ ইজারাগ্রহীতাদের ভাষ্য, এতদিন হাট-বাজার ইজারা মানেই ছিল পূর্বনির্ধারিত ফলাফল। নিলাম ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা, সিদ্ধান্ত হতো পর্দার আড়ালে। ফলে প্রকৃত দরদাতারা অংশ নিতে নিরুৎসাহিত হতেন, আর পৌরসভাও হারাত সম্ভাব্য রাজস্ব। কিন্তু এবার দৃশ্যপট ভিন্ন। পৌর প্রশাসক পান্না আক্তারের দৃঢ় অবস্থানের কারণে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত পরিবেশে নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। সকল ইজারাগ্রহীতার জন্য ছিল সমান সুযোগ। প্রকাশ্যে দর হাঁকানোর মধ্য দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতারা ইজারা লাভ করেন। এতে একদিকে যেমন পৌরসভার আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ফিরে এসেছে আস্থা। একজন প্রবীণ ব্যবসায়ী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমরা কখনো ভাবিনি এভাবে খোলামেলা নিলাম হবে। এতদিন যারা দালাল ছাড়া কিছু বুঝত না, তারাও আজ অবাক।” পৌর প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা জানান, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, পৌরসভার রাজস্ব বৃদ্ধি এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। সুষ্ঠু নিলাম প্রক্রিয়ার ফলে পৌর তহবিলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ জমা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হবে। সচেতন মহল মনে করছেন, এই পদক্ষেপ কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়—এটি একটি দৃষ্টান্ত। সতেরো বছরের গেড়ে বসা অনিয়ম ভেঙে নতুন পথে হাঁটার সাহস দেখিয়েছে আলমডাঙ্গা পৌরসভা। স্থানীয়রা বলছেন, “যদি এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, তবে আলমডাঙ্গা পৌরসভা হবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মডেল।”সিন্ডিকেটমুক্ত হাট-বাজারের এই যাত্রা তাই কেবল অর্থনৈতিক পরিবর্তন নয়; এটি সাধারণ মানুষের অধিকার ফিরে পাওয়ার গল্প, ন্যায় ও স্বচ্ছতার প্রত্যাবর্তনের গল্প।


