বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
সদ্যপ্রাপ্ত
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
কুষ্টিয়ায় বোরো আবাদে তিন জেলায় ডিজেলের ওপর চাপ কমাচ্ছে জিকের পানি, প্রকল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি কৃষকদের
/ ২৬৬ দেখা হয়েছে
বার : বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ন

কাগজ প্রতিবেদক ॥ হাছেন মন্ডল। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উজানগ্রাম ইউনিয়নের উজানগ্রামের কৃষক। চলতি বছর ৫ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করছেন। তবে অন্য কৃষকদের মত তাকে ডিজেল ও সেচ নিয়ে চিন্তা করতে হচ্ছে না। জমিতে সেচ দেওয়া নিয়ে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা নেই। কারণ গঙ্গা-কপোতাঙ্গ (জিকে) সেচ প্রকল্পের পানির মাধ্যমে সেচ সুবিধা পাচ্ছেন জমিতে। একেবারে সস্তায় সেচ সুবিধা পেয়ে খুশি তিনি। হাছেন মন্ডলের মত কুষ্টিয়াসহ তিনটি জেলার কৃষকরা চলতি বছর জিকের সেচ সুবিধা পাচ্ছেন। যেখানে অন্য জেলার কৃষকদের ডিজেলের জন্য লম্বা লাইন ও বাড়তি অর্থ ব্যায় করতে হচ্ছে সেখানে জিকের প্রকল্পের আওতাধীন তিনটি জেলার অন্তত ৭ উপজেলার কৃষকরা সেচের পানি পাচ্ছেন।
এদিকে ডিজেলের ওপর চাপ কমাতে কিভাবে জিকের সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে সবোর্চ্চ সংখ্যক কৃষকদের পানি সরবরাহ করা যায় সে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে প্রশাসন, কৃষি দপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ জন্য সেচ ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতা ও কৃষকদের নিয়ে পরামর্শ সভা করছে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। সেখানে সেচ ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতা, কৃষক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা , কৃষি দপ্তর, জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় করছেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
এ ধরনের একটি সভা গতকাল সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হয় সদর উপজেলার উজানগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ অফিসের হলরুমে। সেখানে সেচের পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতারও ছাড়াও কৃষকরা নানা সমস্যা তুলে ধরেন। এর মধ্যে সময় মত পানি দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন কৃষকরা। পাশাপাশি সেচ খালগুলো নিয়মিত সংস্কার, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ও কৃষকদের নিকট থেকে সেচের অর্থ আদায় করার ওপর জোর দেন সবাই। এছাড়া নতুন করে খাল খননের মাধ্যমে জিকের সক্ষমতা আরো কিভাবে বাড়ানো যায় সেই বিষয়েও মতামত দেন কৃষকরা।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক তৌহিদ-বিন-হাসান। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রশিদুর রহমান বাপ্পীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, খামারবাড়ির উপ-পরিচালক ড. শওকত হোসেন ভূঁইয়া, পানি উন্নয়ন বোর্ডেরে নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক পাম্প হাউজ) মিজানুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রজেক্ট নেনিফিট মনিটরিং এভালুয়েশন ইউনিট) নাহিদুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোকনু উজ জামান, এএসপি (মিরপুর সার্কেল) মাহমুদুল হক, সদর উপজেলা কৃষি অফিসার রুপালি খাতুন, পানি উন্œয়ন বোর্ডের উপ-প্রধান সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল মতিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কুষ্টিয়া পানি উন্œয়ন বোর্ডের সহকারী সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আইয়ুব হোসেন।
আইলচারা ইউনিয়নের সেচ ব্যবস্থাপনা দলের সভাপতি ও কৃষক মোসলেম শেখ জানান,‘ জিকের পানিতে তারা আবাদ করছেন। নিজেরও ১০ বিঘা জমিতে ধান রয়েছে। পানি নিয়ে তাদের এ বছর কোন চিন্তা নেই। তবে খাজানগর ও আইলচারায় বেশ কয়েকটি ক্যানাল চাল কলের বর্জ্যরে কারনে বন্ধ হয়ে গেছে। বর্জ্য যাতে ক্যানালে না যায় সে বিষয়টি দাবি জানিয়েছি।’
কৃষকরা জানান, জিকের পানির সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। জিকের পানির সঠিক ব্যবহার করা গেলে আবাদ ও ফলন দুটিই বাড়বে। আরো বেশি সংখ্যক কৃষক সেচের আওতায় আসবে। যেসব অঞ্চলে খাল ভরাট ও দখল হয়ে গেছে সেগুলো উদ্ধার করে সেচের আওতায় আনতে পারলে এটা সম্ভব। সেচ ব্যবস্থাপনা দল ও এসোসিয়েশনের নেতারা জানান,‘ এবার দুটি পাম্প সচল থাকায় পানি পেতে সমস্যা হচ্ছে না। বোরোতে সেচ নিয়ে কৃষকদের চিন্তা নেই। এ বছর শুরতেই পানি পেয়েছেন তারা। পানি পাওয়ার কারনে জ্বালানি ও অর্থ সাশ্রয় হয়েছে।
৪ জেলা নিয়ে গঠিত সেচ ব্যবস্থাপনা ফেডারেশনের সভাপতি শাফায়েত হোসেন পল্টু জানান,‘ ৪টি জেলার কৃষকদের সেচ সুবিধা দেওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তিনটি জেলার কৃষকরা বোরোতে পানি পাচ্ছে। কিছু এলাকায় শীতকালিন পেঁয়াজসহ অন্যান্য ফসল আছে মাঠে। এ এলাকায় একটু দেরিতে সেচ দেওয়া হবে। এবার তেলের সংকট থাকায় কৃষকরা জিকের পানি সঠিকভাবে পাওয়ায় তারা উপকৃত হচ্ছে। এক্ষেত্রে জ্বালানি যেমন সাশ্রয় হচ্ছে তেমনি অর্থ লাগছে না কৃষকদের।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এই মুহুর্তে যাতে সবোর্চ্চ সংখ্যক কৃষকদের সেচ প্রদান করা যায় সেই বিষযে তারা উদ্যোগ নিচ্ছেন। যাতে করে সার্বিক ভাবে কৃষকরা উপকৃত হয় ও এবং আবাদে কোন প্রভাব না পড়ে।
কুষ্টিয়া খামারবাড়ির উপ-পরিচালক শওকত হোসেন ভূইয়া বলেন, কুষ্টিয়াতে ১০ হাজার হেক্টর বোরো চাষী জিকের পানি ব্যবহার করে আবাদ করছেন। এটা কিভাবে বাড়ানো যায় সেটা তারা চেষ্টা করছেন। জিকের পানি যারা ব্যবহার করছেন তাদের অর্থ ও জ্বালানি সাশ্রয় হচ্ছে।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক রশিদুর রহমান বাপ্পি বলেন- দুটি পাম্পের মাধ্যমে তারা তিনটি জেলায় সেচের পানি সরবরাহ করছেন। এ বছর পানি পেতে কৃষকদের কোন সমস্যা হচ্ছে। কৃষক ও সেচ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরা বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। সেগুলো আমলে নিয়ে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে আগামীতে।’
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, এই মুহুর্তে ডিজেলের ওপর চাপ কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের স্বার্থ চিন্তা করে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জিকের মাধ্যমে যাতে কৃষকরা বেশি পরিমাণ জমিতে সেচ প্রদান করতে পারে সে বিষয়টি এখন অগ্রধিকার দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মূল ষ্টেশন থেকে পদ্মার পানি দুটি বৃহৎ পাম্পের মাধ্যমে ক্যানালে সরবরাহ করা হয়। এই পানি কুষ্টিয়াসহ ৪টি জেলার একেবারে প্রান্তিক কৃষকদের সেচের কাজে ব্যবহার করছে। চলতি বছর প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর বোরো জমিতে সেচ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এতে ডিজেলের পাশাপাশি অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে কৃষকদের।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ
ফেসবুক পেজ