বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা ব্যুরো: সড়কে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের পর জরিমানা দিতে আর নগদ অর্থ বহনের প্রয়োজন হবে না। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করতে চুয়াডাঙ্গায় চালু হলো ট্রাফিক জরিমানা আদায়ের ডিজিটাল ব্যবস্থা। চঙঝ মেশিন ও বাংলা ছজ কোডের মাধ্যমে মুহূর্তেই জরিমানা পরিশোধ করা যাবে, যা একদিকে যেমন ভোগান্তি কমাবে, অন্যদিকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে। বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ট্রাফিক প্রসিকিউশন সিস্টেমের আওতায় ডিজিটাল জরিমানা আদায় কার্যক্রমের উদ্বোধন, চুক্তি স্বাক্ষর এবং প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা পুলিশ, কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি এবং আইটিসিএল-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবির খান। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ডিজিটাল জরিমানা আদায় কার্যক্রমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। পরে ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তা ও সদস্যদের চঙঝ মেশিন পরিচালনা এবং বাংলা ছজ কোড ব্যবহার করে ডিজিটাল লেনদেনের ওপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণে ক্যাশলেস পদ্ধতিতে জরিমানা আদায়, নিরাপদ ও দ্রুত অর্থ পরিশোধ, ডিজিটাল রসিদ প্রদান এবং সেবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবির খান বলেন, “ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করাই জেলা পুলিশের লক্ষ্য। ডিজিটাল জরিমানা আদায় ব্যবস্থা চালুর ফলে সেবাগ্রহীতারা নিরাপদ, দ্রুত ও ঝামেলামুক্তভাবে জরিমানা পরিশোধ করতে পারবেন। এটি স্মার্ট পুলিশিং বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নগদ অর্থে জরিমানা পরিশোধের ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ, খুচরা টাকার সমস্যা এবং নানা ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হতে হতো। নতুন এই ডিজিটাল পদ্ধতিতে ব্যাংকের চঙঝ মেশিন কিংবা বাংলা ছজ স্ক্যান করে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা পরিশোধ করা যাবে। ফলে লেনদেন হবে আরও নিরাপদ, দ্রুত ও স্বচ্ছ। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিনহাজ-উল-ইসলাম, ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন) মো. আমিরুল ইসলাম, কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, আইটিসিএল-এর প্রতিনিধিরা এবং চুয়াডাঙ্গা ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও আধুনিক পুলিশি সেবা পৌঁছে দিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। চুয়াডাঙ্গায় ডিজিটাল ট্রাফিক জরিমানা ব্যবস্থা চালু হওয়াকে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে একটি সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


