এনএনবি : ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বসাম্প্রতিক বিমান হামলা ‘কঠোর আঘাত’ হেনেছে দাবি করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সম্প্রতি জর্ডান ও ইরাকে নিহত তিন মার্কিন সেনাকে ‘সম্মান জানিয়েই’ এই হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার শেষরাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা টানা নবম রাতের মতো এই নতুন দফার হামলা শুরু করেছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় তাবরিজ, চাবাহার, কোনারক, বন্দর মাহশাহর এবং বন্দর ইমাম খোমেনি শহরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় আঘাত হানা হয়েছে। মূলত হরমুজ প্রণালিতে চলাচল করা বাণিজ্যিক জাহাজে তেহরানের হামলা চালানোর সক্ষমতা কমাতেই ওয়াশিংটন এই অভিযান চালিয়েছে। মার্কিন হামলার জবাবে সিরিয়ায় ‘ঝটিকা আক্রমণ’ এবং জর্ডানের আকাবা বিমানবন্দরে অবস্থানরত মার্কিন বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করেছে ইরান। এই উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীও তাদের আকাশসীমায় ইরানি ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, ট্যাংকারগুলো প্রণালির একটি ঝুঁকিপূর্ণ দক্ষিণ রুট ব্যবহারের সময় বিস্ফোরিত হয়ে থমকে যায়। তবে মার্কিন সেন্টকম ইরানের এই দাবি অস্বীকার করেছে। মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পেট্রোকেমিক্যালের মতো পণ্য কিংবা এক ফোঁটা তেল-গ্যাস পরিবহনও নিরাপদ হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। এর জবাবে তারা একটি ‘শাস্তিমূলক অভিযান’ চালাবে বলেও উল্লেখ করেছে। এর আগে জর্ডান ও ইরাকে ইরানের পৃথক হামলায় তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের সদরদপ্তর পেন্টাগন জর্ডানের ঘাঁটিতে নিহত দুজন সেনার পরিচয় শনাক্ত করেছে, তারা হলেন ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গঞ্জালেস এবং ২৫ বছর বয়সী লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান। এছাড়া, সেখানে নিখোঁজ হওয়া তৃতীয় আরেকজন সেনার সন্ধানের সময় কিছু শনাক্ত না হওয়া দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার এই ক্রমবর্ধমান সংঘাতের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখে। তবে একটি আন্তর্জাতিক জলপথ ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে কি না, তা বিশ্বকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে হওয়া একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর এই সংঘাত নতুন রূপ নেয়। এরপর ৮ জুলাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওই চুক্তিটিকে ‘বাতিল’ ঘোষণা করার পর থেকে স্থায়ী শান্তি চুক্তির আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে।


