দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মার ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত কয়েকদিনে পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়েছে শত শত বিঘা ফসলি জমি। এরফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পদ্মাপাড়ের অসংখ্য মানুষ। পদ্মা নদীতে উজানের নেমে আসা পানি প্রবেশের পর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড় ও কোলদিয়াড় এলাকায় নদীভাঙন তীব্র আকার করেছে। গত দুই সপ্তাহে নদী ভাঙনে অর্ধশতাধিক কৃষকের প্রায় ৩০০ বিঘা আবাদি জমি ও চলতি মৌসুমের বিভিন্ন ধরনের ফসলসহ জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা জানিয়েছেন, মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড় ও কোলদিয়াড় এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পদ্মা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। নদীর তীব্র স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে একের পর এক ফসলি জমি নদীতে বিলীন হচ্ছে। তবে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে ওই এলাকায় পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। বর্তমানে পানির উচ্চতা রয়েছে ৯ দশমিক ৩৭ সেন্টিমিটার, যা বিপদসীমার ৪ দশমিক ৪৩ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। তাই আপাতত পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা নেই। তবে নদী ভাঙ্গন রোধে ইমারজেন্সি জিও ব্যাগের ব্যবস্থা রয়েছে। কোলদিয়াড় এলাকার স্থানীয় কৃষক নেন্টু মিয়া (৬২) জানান, গত ১৫ দিনে তার প্রায় ৮ বিঘা পাটখেতসহ আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। তিনি বলেন, প্রতিবছরই আমরা নদীভাঙনের শিকার হই। এবারও একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মাজদিয়াড় এলাকার কৃষক ইউসুফ আলী জানান, গত দুই সপ্তাহে তার প্রায় ৫ বিঘা জমি, গবাদিপশুর জন্য আবাদ করা ঘাস ও পাটখেতসহ নদীতে বিলীন হয়েছে। তিনি নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান। এছাড়াও ইয়াসিন প্রামাণিকের ৬ বিঘা, আমিরুল ইসলামের ৮ বিঘা, নজরুল ইসলামের ৩বিঘা, বাবুল প্রামাণিকের আড়াই বিঘা এবং সাধু ফরাজির ১২ বিঘাসহ প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন কৃষকের ২৫০ বিঘা থেকে ৩০০ বিঘা ফসলি জমি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে স্থানীয় কৃষকরা জানান। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, প্রায় এক মাস ধরে পদ্মা নদীর ভাঙন দেখা দিলেও এখন পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ড বা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাননি কিংবা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। নদী ভাঙনের বিষয়ে মরিচা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও পদ্মার ভাঙন শুরু হয়েছে। গত ১৫ থেকে ২০ দিনে প্রায় ৩০০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রশাসন বা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো কর্মকর্তার কোন খোঁজ খবর নেননি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুর রহমান বলেন, নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছু এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ভূক্তভোগি পদ্মা পাড়ের সাধারণ মানুষের দাবি, প্রতিবছরই পদ্মার ভাঙনে হাজার হাজার একর ফসলি জমি ও অসংখ্য পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে সর্বশান্ত হচ্ছে। একাধিকবার ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেক পরিবারের বর্তমানে বসত গড়ার মতো কোনো জায়গা-জমিও নেই। পদ্মার ভাঙনরোধে তারা পদ্মাপাড়ে একাধিকবার মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও নদীশাসনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি আজও। তাই নদীতীরবর্তী গ্রাম রক্ষায় দ্রুত বাঁধ নির্মাণসহ স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান তারা।


