কাগজ প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ায় ব্যাপক উৎসবমুখর আয়োজনে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় এক্স ষ্টুডেন্টস এসোসিয়েশন অব কুষ্টিয়ায় ডুসাক এর মিলনমেলা এবং ডুসাক পরিবারের দুই উপাচার্যসহ ৫ গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ১৭ জুলাই সন্ধায় কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে ডুসাকের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলম টুকু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উৎসবমুখর আয়োজনে ডুসাক পরিবারের ৫জন গুণীব্যক্তিকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। এসময় ঢাবি’র প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ফেলে আসা প্রিয় ক্যাম্পাসের স্মৃতি চারণে আনন্দ বেদনার সংমিশ্রনে খুঁজে ফিরছিলেন প্রিয় সতীর্থদের। কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষক মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন ও শিল্পী জাকারিয়া মিতুলের সঞ্চালনায় এই আয়োজনে যুক্ত হয়েছিলো উপভোগ্য এক অনন্য মাত্রা। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত, গীতা পাঠ এবং সকল অংশীজনের দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শনসহ জাতীয় সংগীত পরিবেশন। এরপর গুণীজনদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে বরণ করেন আরো কিছু গুণী মানুষ। এসময় রেজাউর রহমান খান ফয়সালের স্বাগত বক্তব্যের মধ্যদিয়ে শুরু হওয়া গুণীজন সংবর্ধনায় ৫ গুণীজনকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সেখানে সম্মানিত ও সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে ঢাবি’র প্রাক্তন কৃতি শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন- কুমারখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ মামুনুর রশিদ সিদ্দিকী, যশোর শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক মোঃ কবুয়াত আলী বিশ্বাস, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডক্টর মোহা: আবদুল লতিফ, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: তোজাম্মেল হোসেন এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রদর্শিত হয় গুণীজনদের নিয়ে নির্মিত চমৎকার ভিডিও বায়োগ্রাফি। ভিডিওর নান্দনিক নির্মাণশৈলী দর্শক ও গুণীজনদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। বায়োগ্রাফিটির নির্মাতা শিল্পী জাকারিয়া মিতুল-এর সৃজনশীল কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন উপস্থিত অতিথিবৃন্দ। এরপর গুণীজনরা তাদের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানের আরেকটি বিশেষ চমক ছিল শিল্পীর নিজের হাতে আঁকা প্রতিটি গুণীজনের সেলফ পোট্রেট পেইন্টিং উপহার দেওয়া। শিল্পী জাকারিয়া মিতুলের আঁকা এই অনন্য উপহার পেয়ে গুণীজনরা অত্যন্ত আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সংবর্ধনা পর্বের পর ডুসাকের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাজমুল হুসাইন এবং সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ রফিকুল আলম টুকু-এর সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক পর্বের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিল্পীদের সুরের মূর্ছনায় মেতে ওঠেন উপস্থিত সবাই। শিল্পী আনোয়ারুল ইসলাম কিশোর কুমারের জনপ্রিয় গান ‘আজ এই দিনটাকে মনের খাতায় লিখে রাখো’ পরিবেশন করেন। পহেলা শ্রাবণ উপলক্ষে শিল্পী জাকারিয়া মিতুল পরিবেশন করেন ‘ডিফারেন্ট টাচ’-এর জনপ্রিয় গান ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’। এছাড়াও শিল্পী লাবণ্য কুমার সরকার, আবু সাঈদ এবং নাজমুল হোসাইন-সহ অন্যান্য শিল্পীদের চমৎকার সব পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। এই আয়োজনের শেষভাগে অনুষ্ঠিত হয় নৈশভোজের ম্যধদিয়ে সমাপ্তি হয়।


