কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও সামাজিক উন্নয়নে সমাজসেবক ও আয়কর আইনজীবী নন্দগোপাল বিশ্বাসের অসামান্য অবদান কুমারখালীবাসী চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় কুমারখালী শহরের রংধনু রেষ্টুরেন্টে প্রয়াত নন্দ গোপাল বিশ্বাস এর আতœার চিরশান্তি কামনায় আয়োজিত প্রার্থনা ও স্মরণসভায় বক্তারা এ কথা বলেন। প্রয়াতের পরিবারবর্গ, আতœীয় -স্বজন ও বন্ধুবান্ধব আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তারা আরো বলেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করাই ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম ব্রত। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে অনেকেই কুমারখালীর বিভিন্ন সমাজসেবামুলক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এবং আজও তাঁর স্মৃতিকে ধারণ করে এখনও অনেকেই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন তারা। উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক কে এম আলম টমে বলেন, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠায় তাঁর ছিল অনন্য ভূমিকা। কুমারখালী পাবলিক লাইব্রেরির পরিচালনা ও বিকাশেও তিনি সবসময় আন্তরিক ও উদ্যোগী ছিলেন। শুধু তাই নয়, কুমারখালীর সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে তিনি নিরন্তর ভাবতেন এবং কাজ করে গেছেন নিঃস্বার্থভাবে। এ্যাড. জাকারিয়া মিলন বলেন, নন্দ গোপাল বিশ্বাস ছিলেন সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও মানবতার এক উজ্জ্বল প্রতীক। তিনি সবসময় মানুষকে ভালো কাজে উৎসাহিত করতেন এবং সমাজের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত রাখতেন। আজ তাঁর বিদায়ে কুমারখালী হারালো একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক, আর আমরা হারালাম একজন অভিভাবকতুল্য মানুষকে। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান বলেন, নন্দ গোপাল বিশ্বাসের কর্ম, আদর্শ ও মানবিকতা আমাদের পথ দেখাবে চিরকাল। আমি তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি। কুমারখালীর একজন সত্যিকারের ভালো মানুষ, সমাজসেবক, সাংস্কৃতিক সংগঠক সবার প্রিয় নন্দ গোপাল বিশ্বাসের স্মৃতি ও আদর্শকে ধরে রাখতে ও নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে স্মরণিকা এবং স্মৃতি সংস্থা গঠনের গুরুত্ব্যের কথা তুলে ধরেন অনেকেই। বিশিষ্ট শিল্পপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্রুর রফিক বিশ্বাসের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বক্তব্য দেন, এ্যাড. সুধীর শর্মা, বিএনপি নেতা লুৎফর রহমান, বিএনপি নেতা মনোয়ার হোসেন, এয়াড. শংকর মজুমদার কাজল, বীর মুক্তিযোদ্ধা মুন্সী মাহমুদ হোসেন মানু, যুবদল নেতা এ্যাড. জাকারিয়া মিলন সহ আরো অনেকে। স্মরণসভা শেষে প্রয়াতের পরিবারের পক্ষ থেকে আগত সবাইকে আপ্যায়ণের ব্যবস্থা করা হয়। এ অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক, সামাজিক -সাংস্কৃতিক অঙ্গন সহ সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


