আলমডাঙ্গা ব্যুরো ॥ ঢাকার চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান ছিল দেশের প্রাথমিক শিক্ষার সাফল্য, সৃজনশীলতা ও সম্ভাবনার এক মহামিলন। দেশের ৬৪টি জেলার ৬৪টি নির্বাচিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই জাতীয় প্রদর্শনীতে খুলনা বিভাগের শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় হিসেবে স্টল প্রদর্শনের গৌরব অর্জন করে আলমডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর সেই স্টলেই এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্তরিক সময় কাটান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) প্রধানমন্ত্রী স্টল পরিদর্শনের সময় বিদ্যালয়ের চার ক্ষুদে শিক্ষার্থী—দ্বিতীয় শ্রেণির আকিক, তৃতীয় শ্রেণির আমিরা, চতুর্থ শ্রেণির তাশজিদ এবং সামিন ইয়াসার-এর সঙ্গে করমর্দন করেন। স্নেহভরে আকিকের মাথায় হাত রেখে তার পড়াশোনার খোঁজ নেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তরিকতা মুহূর্তেই শিক্ষার্থীদের মুখে ফুটিয়ে তোলে আনন্দের হাসি, যা উপস্থিত সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়।স্টলে সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার। উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উম্মে জোবায়দা। সহযোগিতায় ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার চার উপজেলার উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারগণ, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবকবৃন্দ, ক্লাস্টারভুক্ত বিদ্যালয়গুলোর প্রতিনিধিরা এবং ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাকিবুস সালেহীন। অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি আসে, যখন বিদ্যালয়ের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষা ও উন্নয়ন নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হারেস উদ্দিনসহ প্রতিনিধির সঙ্গে প্রায় এক মিনিট কথা বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। মনোযোগ দিয়ে বিষয়টি শোনার পর তিনি আশ্বস্ত করেন, এসব শিক্ষার্থীর যেকোনো প্রয়োজন বা সহযোগিতার বিষয়ে যেন সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক আশ্বাস উপস্থিত সবাইকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।জাতীয় পর্যায়ের এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ আয়োজনে আলমডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অংশগ্রহণ শুধু একটি বিদ্যালয়ের অর্জন নয়; এটি চুয়াডাঙ্গা জেলার শিক্ষা পরিবারের জন্যও এক অনন্য গর্বের অধ্যায়। ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, শিক্ষকদের নিষ্ঠা এবং প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে এই সাফল্য ভবিষ্যতের জন্য নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে।দিনশেষে কৃতজ্ঞতা আর গর্বের অনুভূতিতেই মুখর ছিল পুরো প্রতিনিধি দল। তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা ও উৎসাহের জন্য। একই সঙ্গে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনের মাধ্যমে দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জাতীয় এই মঞ্চে আলমডাঙ্গার ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের হাসিমাখা মুখ যেন একটি বার্তাই দিয়েছে—সুযোগ পেলে গ্রামবাংলার শিশুরাও স্বপ্ন ছুঁতে পারে, আর সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন সবার সম্মিলিত ভালোবাসা, সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল উদ্যোগ।


