ওলি ইসলাম, ভেড়ামারা থেকে ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ‘ষোলদাগ মাধ্যমিক বিদ্যালয়’-এর একমাত্র একাডেমিক ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে চরম জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই এই জরাজীর্ণ ভবনে বাধ্য হয়ে ক্লাস করছে প্রায় পাঁচ শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থী। এতে একদিকে যেমন ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান, অন্যদিকে অভিভাবক ও শিক্ষকদের মনে বিরাজ করছে প্রতিনিয়ত আতঙ্ক। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি দীর্ঘ দিন ধরে অত্র অঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারে আলো ছড়িয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে প্রধান শিক্ষকসহ ১৪ জন শিক্ষক এবং ৪ জন কর্মচারী কর্মরত আছেন। প্রতি বছরই এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাবলিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছে। বিগত ২০২৩ সালে এসএসসিতে পাসের হার ছিল ৯২.৬২%, ২০২৪ সালে ৯১.৭২% এবং ২০২৫ সালে এই হার ছিল ৭৭.৭৮%। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনটির দেয়াল ও ছাদে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে ক্লাসরুম ভেসে যায়। অনেক জায়গায় ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ে ভেতরের মরিচাপড়া রড বেরিয়ে এসেছে। ক্লাস চলাকালীন সময়েও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, “আমরা যখন ক্লাসে বসি, তখন সবসময় ভয়ের মধ্যে থাকি কখন মাথার ওপর ছাদ ভেঙে পড়ে। বৃষ্টি হলে বই-খাতা সব ভিজে যায়। আমাদের একটি নতুন চারতলা ভবন খুব দরকার।” অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের এই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে তারা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে এখানে একটি নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, “ভবনটি সম্পূর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কিন্তু বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় আমরা বাধ্য হয়ে এই জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই ক্লাস নিচ্ছি। প্রতি বছর ভালো ফলাফল করার পরও আমাদের শিক্ষার্থীরা ন্যূনতম নিরাপদ অবকাঠামোর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এখানে জরুরি ভিত্তিতে একটি চারতলা নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি।” অত্র অঞ্চলের শিক্ষার মান ধরে রাখতে এবং শত শত শিক্ষার্থীর জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বিদ্যালয়টিতে একটি আধুনিক চারতলা ভবন বরাদ্দ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফারুক আহমেদ বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চার তলা একাডেমিক ভবন বরাদ্দের তালিকা নির্ধারণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাপতিত্বে একটি বৈঠক হয়েছে, উক্ত বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক কয়েকটি বিদ্যালয়ের নাম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর বরাবরে পাঠানো হয়েছে এই তালিকায় ষোলো দাগ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নামও আছে।


