কাগজ প্রতিবেদক ॥ তোমারও নামে তসবিহ খোদা লুকিয়ে যেন রাখি, কারো মনে দিওনা আঘাত সে আঘাত লাগে কাবার গায়ে, তারা ভরা রাতে, আমি রুপ নগরের রাজকন্যা রুপের যাদু এনেছি, এমন অসংখ্য বিখ্যাত, জনপ্রিয় গানের রচয়িতা কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়েনের কবি আজিজুর রহমান। ১৯৪৭ সালের আগে গায়ক আব্বাসউদ্দীনের কণ্ঠে তার লেখা ‘কারও মনে দিও না আঘাত’ গানটি রেকর্ড করার পর এ দেশের গ্রামগঞ্জে তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়ে। আজিজুর রহমানের আমন্ত্রণে কুষ্টিয়া হাটশ হরিপুরে এসেছিলেন পল্লীকবি জসীমউদ্দীন, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও শিল্পী আব্বাস উদ্দিন। কিন্তু আজ তার বাস্তভিটা ও কবর, পরিবার অবহেলিত উপেক্ষিত। তাঁর মুল্যায়নের দাবী কবির উত্তোরসুরী ও এলাকাবাসীর। কথা হয় কবির নাতি ছেলে শফিকুর রহমান ও আনিছুর রহমানের সাথে তারা জানান, তারা দুজনই ঢাকায় থাকেন এখানে এসেছেন বেড়াতে। তারা জানান, তাদের দাদা একজন এ দেশের গুণী মানুষ অথচ এত বছরেও তার মুল্যায়ন হয়নি। তাদের দাবী কবি আজিজুর রহমানের জন্ম-মৃত্ব্য বার্ষিকীটি অন্তত সরকারীভাবে পালিত হোক। তাদের বসতভিটা ও কবরটি আগামী প্রজন্মের জন্য প্রতœতত্ব অধিদপ্তরের অধিনে নেয়া হউক। খুব আক্ষেপ করে জানালেন কবির ভাইপো শাহ ফজলুল হক সাকিক। দি ওল্ড কুষ্টিয়া হাই স্কুলের সামনে নিজেদের বাড়ীর সামনে একটি ষ্টেশনারী দোকান রয়েছে। সেখান থেকে তিনি এসে তাদের বসবাসরত বাড়ীর বিশাল বারান্দা দেখিয়ে বললেন, এই বারান্দায় প্রতিদিন সন্ধা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কবিতা আবৃতি, গানের আসর বসতো। এই বাড়ীতে বিশিষ্ট শিল্পী আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, কবি জসিম উদ্দিন ও বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলাম এসেছিলেন। কিন্ত আজ কবি আজিজুর রহমান এ দেশের একটি সম্পদ অথচ তার বাস্তভিটা খসে খসে পড়ছে। হারিয়ে যাচ্ছে তার সব স্মৃতি চিহ্ন। তিনিও তাদের সঠিক ভাবে পুর্ণবাসন করে কবির বাস্তভিটা ও কবরটি প্রতœঅধিদপ্তরের দাবী জানান। বাংলা সাহিত্যে ও গানে অন্যন্য অবদান রয়েছে কবি আজিজুর রহমানের। এখানে তাঁর জন্ম হয়েছিল বলেই কুষ্টিয়াবাসী গর্বিত। অথচ জন্ম-মৃত্ব্যদিনের আয়োজনে জনপ্রতিনিধি ও আমলাদের ডেকেও পাওয়া যায় না। তাঁর মত একজন খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বের কবর আজ ছাগলের বিচরণ ভুমি। আর বাস্তভিটাটিটি ভেঙ্গে পড়ছে। জানালেন কবি আজিজুর রহমান জাতীয় সাহিত্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ কাইয়ুম। যে দেশে গুণীজনকে সম্মান দেয়া হয় না সে দেশে গুণীজন জন্মায়না। বাংলা আধুনিক গানকে জনপ্রিয় করেছিলেন কবি আজিজুর রহমান। তার জন্ম-মৃত্ব্য রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হওয়া এবং কুষ্টিয়া হরিপুর সংযোগ সেতুটি কবি আজিজুর রহমানের নামে নামকরণের দাবী কবি আজিজুর রহমান জাতীয় সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আলীর। কবি আজিজুর রহমান ১৯১৪ সালের ১৮ ই অক্টোবর জন্মগ্রহন করেন। তার পিতা মোহাম্মদ বশির উদ্দিন, মাতা বিবি সবুরন নেছা। তিনি ১৯৭৮ সালের ১২ ই সেপ্টেম্বর ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্ব্যবরণ করেন। আজিজুর রহমান ১৯৬০ সালে কিশোর মাসিক ‘আলাপনী’র সম্পাদক এবং ১৯৬৪ সালে দৈনিক ‘পয়গাম’-এর সাহিত্য সম্পাদক হন। তার কবিতার সংখ্যা ৩০০, গানের সংখ্যা ২০০০ এবং অপ্রকাশিত রচনার সংখ্যা প্রায় ৩০টি।


