কাগজ প্রতিবেদক ॥ সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী আগামী অক্টোবর মাসে কুষ্টিয়া পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক তৎপরতা দিন দিন বেড়ে চলেছে। সম্ভাব্য তফসিল ঘোষণার আগেই বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, মতবিনিময় সভা ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন। শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে তারা উন্নয়ন, নাগরিক সেবা, পরিচ্ছন্নতা ও যানজট নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, “প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তাসহ আরও বেশ কিছু বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, আমরা সকলে সম্মিলিতভাবে তার পক্ষে কাজ করব।” কুষ্টিয়া শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন বলেন, “দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় এবং পৌরবাসীর সেবা করার সুযোগ পাই, তাহলে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।” কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক আক্তারুজ্জামান কাজল মাজমাদার বলেন, “দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তাকেই জয়ী করতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করব। তবে দল যদি আমাকে বেছে নেয়, তাহলে শহরের ভূমিহীন মানুষদের জন্য স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করব। যাতে কোনো প্রভাবশালী তাদের বাস্তুচ্যুত করতে না পারে। অন্তত একটি কাগজের ব্যবস্থা করব যেন তারা নিরাপদে বসবাস করতে পারে।” কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বশিরুল আলম চাঁদ বলেন, “সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতা না থাকলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জয় পাওয়া কঠিন। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, আমি বিশ্বাস করি জনগণ আমাকে নির্বাচিত করবে। আর নির্বাচিত হলে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করে যাব।” কুষ্টিয়া শহর বিএনপির সভাপতি এ কে বিশ্বাস বাবু জানান, “দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়রের চেয়ারটি দলকে উপহার দেব। অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে তার জন্যও আমরা কাজ করব।” কুষ্টিয়া চেম্বারের পরিচালক ও যুবদল নেতা ফুয়াদ রেজা ফাহিম বলেন, “দেশনায়ক তারেক রহমান একজন ডিজিটাল ব্যক্তিত্ব। তিনি যাকেই মনোনীত করবেন, সেই কুষ্টিয়া পৌরসভাকে ডিজিটালাইজ করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।” অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও প্রার্থিতার প্রস্তুুতি নিচ্ছে। জেলা সেক্রেটারি সুজাউদ্দিন জোয়ার্দার বলেন, “দল কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র পদে আমাকেই মনোনীত করবে বলে আমি নিশ্চিত। সে লক্ষ্যে বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। পৌরবাসী যদি আমাকে নির্বাচিত করে, তাহলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে দায়িত্ব পালন করব।” তবে এখনো বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। ভোটারদের প্রত্যাশা, যোগ্য, সৎ ও জনবান্ধব নেতৃত্ব নির্বাচিত হোক, যিনি শহরের দৈনন্দিন সমস্যা যেমন যানজট, নোংরা পরিবেশ ও নাগরিক সেবার ঘাটতি দূর করতে পারবেন। অক্টোবরের নির্বাচনকে ঘিরে কুষ্টিয়া পৌরসভায় রাজনৈতিক আবহ এখন প্রাণবন্ত। দলীয় মনোনয়ন ও চূড়ান্ত সমীকরণ কোন দিকে যায়, সেদিকে স্থানীয়দের নজর। সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে পৌরবাসী যেন তাদের কাঙ্ক্ষিত নেতৃত্ব পান, সেটাই এখন সবার প্রত্যাশা।


