বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
সদ্যপ্রাপ্ত
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
কুষ্টিয়া ইসলামীয়া কলেজ মার্কেটে অনুমতি না নিয়ে দোকান নির্মাণ করে বিক্রি
/ ২৮ দেখা হয়েছে
বার : বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ন

কাগজ প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া ॥ কুষ্টিয়া শহরের এনএস রোডে অবস্থিত ইসলামিয়া কলেজ মার্কেটের দোতলায় জায়গা দখল করে দুটি দোকান ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী দুই রাজনীতিকের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত ঈদুল আজহার ছুটিতে তড়িঘড়ি করে দোকান দুটি নির্মাণ করে ৪০ লক্ষাধিক টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়। কলেজ প্রশাসনের দাবি, বিষয়টি তারা জানেন না। সরেজমিনে দেখা গেছে, ইসলামিয়া কলেজের অধ্যক্ষ যে ভবনে বসেন সেই ভবনের পূর্ব পাশে কলেজের মূল ক্যাম্পাস ও মার্কেটটি অবস্থিত। মার্কেটের দোতলার দক্ষিণ অংশে রেললাইন ঘেঁষে ওপরে কয়েক মাস আগে শৌচাগার নির্মাণ করা হয়। এই টয়লেটের পাশে ফাঁকা জায়গা দখল করে দুটি দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সার্টার লাগানো হলেও তালা ঝুলছে। নবনির্মিত দুটি দোকানের আয়তন ১২০ বর্গফুটের বেশি হবে। এই মার্কেটের দোতলার দোকানগুলো নিচতলার ব্যবসায়ীরা ছোট ছোট গুদাম ঘর হিসেবে ব্যবহার করেন। বর্তমানে দোতলায় একেকটি দোকানের দাম ২০ লাখ টাকার বেশি বলে জানান কয়েকজন ব্যবসায়ী। নিচতলার তিনজন ব্যবসায়ীর কাছে জানতে চাইলে তারা এ বিষয়ে তথ্য দিতে রাজি হননি। পরে অন্য এক ব্যবসায়ী গোপনে প্রতিবেদককে ডেকে নিয়ে জানান, ঈদুল আজহার ছুটির মধ্যে টয়লেটের পাশের ফাঁকা জায়গায় দোকানের কাজ শুরু হয়। ইট, বালু ও খোয়া এনে রেললাইনের পাশে রাখা হয়। রাজমিস্ত্রিরা দিনগুলোতে বেশি কাজ করেছে। কয়েক সপ্তাহ আগে ছাদের ঢালাই দেওয়া হয়। সর্বশেষ দোকানে সার্টার লাগানো হয়েছে। জানা গেছে, কলেজের মূল ফটকের সামনে অবস্থিত থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা বিএনপির দুই নেতা এ কাজের সঙ্গে জড়িত। তারা দুজনই স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ মুখ খুলছেন না। ক্ষতির শঙ্কায় প্রতিবাদ করেননি কেউ। এনএস রোড কুষ্টিয়া শহরের অন্যতম বাণিজ্য কেন্দ্র। শহরের মূল সড়কের সঙ্গেই এই কলেজের ক্যাম্পাস। বিএনপি বা আওয়ামী লীগের অতীত শাসনামলে কলেজ ক্যাম্পাস ঘিরে প্রায় ৫ শতাধিক দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। একেকটি দোকানের পজিশনের দাম অনেক হওয়ায় সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের নজর পড়ে এ দিকে। এসব দোকান ঘিরে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানকালে জানা যায়, কলেজ প্রশাসনের কয়েকজন শিক্ষকের সহায়তায় বিএনপি নেতারা নতুন দোকান দুটি নির্মাণ করেন। পরে সেগুলো ৪০ লক্ষাধিক টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি কেউ স্বীকার করছেন না। এমনকি এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসন থেকে জানার পরও থানায় অভিযোগ করা হয়নি। বরং বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই মার্কেটের নিচতলায় অবস্থিত পপি লাইব্রেরির মালিকপক্ষ নতুন দোকান দুটি কিনেছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। তবে এ প্রতিষ্ঠানের মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন গত সোমবার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘অনেকেই কেনার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে আপনি কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজের এক শিক্ষক বলেন, ‘কলেজ মার্কেটে কোনো দোকান করতে গেলে পরিচালনা পর্ষদের সভায় আলোচনা শেষে রেজুলেশন করতে হবে। ঘর বা স্থাপনা ঠিকাদারের মাধ্যমে নির্মাণ করতে হবে। তবে কলেজে এ বিষয়ে কোনো আলোচনাও হয়নি। দোকান নির্মাণ হয়েছে সবাই দেখতে পারছে, তবে কারা করেছে কেউ দায় নিচ্ছেন না। শিক্ষকরা সব জানলেও চুপচাপ আছেন। কলেজের দোকান বরাদ্দ দিতে হলে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হয়। ব্যাংকে চালান জমা দিয়ে বরাদ্দপত্র নিতে হয়। তবে এখানে এসবের কিছুই হয়নি।’
দোকানগুলো নির্মাণের সময় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছিলেন হাবিবুল ইসলাম। তিনি দোকান নির্মাণ ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে অধ্যক্ষের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। কারণ কলেজের দোকান নির্মাণে অনিয়ম হওয়ায় এর আগে একজন অধ্যক্ষের বেতন বন্ধ হয়ে আছে। তিনি অবসরজনিত সুবিধা পাননি। পরে জ্যেষ্ঠ ৯ শিক্ষককে ডিঙিয়ে প্রভাষক টিপু সুলতানকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করা হয়। অনিয়মের কারণে তাঁর বেতনও বন্ধ হয়ে আছে। তাঁর সঙ্গে দোকান নির্মাণকারী বিএনপি নেতাদের সখ্য রয়েছে বলে জানা গেছে। গত সোমবার দুপুরে অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে পাওয়া যায় সম্প্রতি পদত্যাগ করা হাবিবুল ইসলামকে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলার সময় তিনি চুপ করে ছিলেন। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রভাষক টিপু সুলতান বলেন, ‘ছুটির মধ্যে কারা করেছে আমি জানি না। দোকান নির্মাণ কোনো নিয়ম মেনে হয়নি, অনিয়ম হয়েছে।’ কলেজের জায়গা দখল করে বাইরের কেউ দোকান নির্মাণ ফৌজদারি অপরাধ কিনা প্রশ্ন করলে বলেন, ‘অবশ্যই।’ কি ব্যবস্থা নিয়েছেন প্রশ্নে বলেন, ‘ডিসি ও সভাপতিকে জানিয়েছি। আগামী সভায় এ বিষয়ে করণীয় ঠিক করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ
ফেসবুক পেজ