কাগজ প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়া মডেল থানার স্কুল ছাত্রী ধর্ষন মামলায় জহির রায়হান (৩২)নামে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদন্ডসহ অর্থদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ (শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল)র বিচারক এএইচ এম শফিকুল ইসলাম জনাকীর্ণ আদালতে পলাতক আসামীর অনুপস্থিতিতে এই রায় দেন। দন্ডপ্রাপ্ত হলেন- সদর উপজেলার হররা ডাক্তার পাড়া গ্রামের বাসিন্দা নুর নবীর ছেলে জহির রায়হান (৩২)। মামলা সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং এস্টেট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেনীর ওই ছাত্রী বাড়ী থেকে স্কুলে যাতায়াতের পথে যুবক রায়হান নানা ভাবে কু-প্রস্তাব সহ উত্ত্যেক্ত করতো। বিষয়টি ওই ছাত্রী পরিবারকে জানালে পরিবারের উদ্যোগে ওই যুবক রায়হানের পরিবারের লোকজন এবং এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ যুবক রায়হানকে একাজ থেকে বিরত থাকার জন্য শাসিয়ে দেয়। এঘটনায় ক্ষুব্ধ যুবক প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে উঠে। তারই জের ধরে ২০১৮ সালের ৩ মার্চ রাত্রী ৯টার দিকে ওই ছাত্রীর পিতা মাতা পাশের বাড়িতে ওয়াজ মাহফিলে যাওয়াই বাড়িতে ওই ছাত্রী ছাড়া অন্যকেউ না থাকার সুযোগে যুবক রায়হান ওই ছাত্রীর কক্ষে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষন করে। এসময় ছাত্রীর আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে যুবক রায়হান কৌশলে দরজা খুলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু জড়ো হওয়া লোকজন যুবক রায়হানকে আটক করে। এঘটনায় ওই ছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় ধর্ষনের অভিযোগ এনে জহির রায়হানের নামোল্লেখসহ এজাহার দায়ের করেন।
মামলাটির তদন্ত শেষে কুষ্টিয়া মডেল থানার উপসহকারী পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম ২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিল ২০০০ (সংশোধনী-৩) সালের ৯(১) ধারার অভিযোগ এনে যুবক জহির রায়হানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন আদালতে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি এ্যাড. আব্দুল মজিদ জানান, ‘কুষ্টিয়া সদর থানার স্কুল ছাত্রী ধর্ষন অভিযোগে আসামী জহির রায়হানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ স্বাক্ষ্য শুনানী শেষে সন্দেহাতীত প্রমানিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সাজা খাটার আদেশ দেন আদালত। আসামী রায়হানকে ২০১৮ সালের মার্চে গ্রেপ্তার করে আদালতে সৌপর্দ করলে আদালত তাদের কারাগারে প্রেরনের আদেশ দেন। পরবর্তীতে আসামী রায়হান জামিয়ে কারামুক্ত হওয়ার পর থেকেই পলাতক রয়েছে’।


