বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
সদ্যপ্রাপ্ত
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
নতুন অর্থবছর শুরু সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস
/ ৪৬ দেখা হয়েছে
বার : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৩:১২ অপরাহ্ন

এনএনবি : নতুন অর্থবছরে সরকারের ব্যয় নির্বাহের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশনে নির্দিষ্টকরণ বিল, ২০২৬ পাসের মধ্য দিয়ে এই বাজেট অনুমোদন পায়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুর দিন আজ ১ জুলাই থেকে এই বাজেট কার্যকর হবে। এর আগে সোমবার করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি এবং কিছু ক্ষেত্রে করছাড়ের ৬৪টি সংশোধনীসহ অর্থ বিল, ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এবারের বাজেটের শিরোনাম রাখা হয়েছে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’।
তার প্রস্তাবিত ব্যয় বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১৯ শতাংশ বেশি। টাকার অংকে এই বাজেট বাংলাদেশের মোট জিডিপির ১৩ দশমিক ৭৩ শতাংশের সমান। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। সংশোধনে তা ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসে।
নির্দিষ্টকরণ বিলে যা আছে নির্দিষ্টকরণ বিল, ২০২৬-এ সরকারের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংযুক্ত তহবিল থেকে অর্থ প্রদান ও নির্দিষ্টকরণের কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে। বিলে বলা হয়েছে, নির্দিষ্টকরণ আইন, ২০২৬, ১৭ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। এই আইনের তফসিলে বর্ণিত কাজের বিপরীতে সংযুক্ত তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ ১৫ হাজার ৪৩৯ কোটি ৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকা প্রদান ও ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সংযুক্ত তহবিলের ওপর দায়যুক্ত ব্যয় ৬ লাখ ৮৫ হাজার ২৫ কোটি ৭ লাখ টাকা। আর সংসদে ভোটে গৃহীত মঞ্জুরি ৮ লাখ ৩০ হাজার ৪১৪ কোটি ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংযুক্ত তহবিলের ওপর দায়যুক্ত ব্যয় নির্বাহ এবং ২০২৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্য অর্থবছরের জন্য সরকারের অনুমিত ব্যয় সম্পর্কে জাতীয় সংসদ কর্তৃক প্রদত্ত মঞ্জুরির বিপরীতে প্রয়োজনীয় অর্থ নির্দিষ্টকরণের বিধান করতেই বিলটি আনা হয়েছে। নির্দিষ্টকরণ বিলটি অর্থ বিল বা মানি বিল হিসেবে সংসদে উত্থাপনের জন্য সংবিধানের ৮২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সুপারিশ লাগে। মঞ্জুরি দাবি ও ছাঁটাই প্রস্তাব বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের দায়যুক্ত ব্যয় ছাড়া অন্যান্য ব্যয় সম্পর্কিত মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট হয়। এবারের বাজেটে মোট ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি ছিল। এসব দাবির বিপরীতে ৪৩ জন সংসদ সদস্য মোট ১ হাজার ৩৪৩টি ছাঁটাই প্রস্তাবের নোটিস দেন। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ৩৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সম্পর্কিত খাতের ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন ও আলোচনার তালিকা দেওয়া হয়। সেই তালিকা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দাবিগুলোর ওপর আলোচনা শুরু হয়। ৩৩ নম্বর দাবি ভোটের পর বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো প্যাকেজে প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, “আমরা বিরোধী দলের পক্ষ থেকেই মূলত প্রস্তাবগুলো দিয়েছি। আর কোনটায় দেয় নাই, স্বাভাবিকভাবেই এটা একটা রেওয়াজ, রেওয়াজের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, যেহেতু এই রেওয়াজ এবং আলোচনা গ্রহণ হওয়ার সম্ভাবনা নাই, সেই কারণে আমরা মূল্যবান সময়টা বাঁচাইতে পারি কিনা, আমাদের কোনো সুযোগ আছে কি না, ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো আমরা প্যাকেজ প্রত্যাহার করে নিলাম তাহলে বোধ হয় কাজটা সহজ হয়।” এরপর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিরোধী দলীয় নেতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমার মনে হয় ট্রেজারি বেঞ্চ আপনার এ প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।” স্পিকার বলেন, প্রস্তাবগুলো উত্থাপনের পর মন্ত্রী প্রস্তাব উত্থাপন করলে সরাসরি ভোটে দেওয়া হবে।
পরে ৩৫ নম্বর দাবি থেকে বাকি দাবিগুলো সরাসরি ভোটে দেন স্পিকার। মঞ্জুরি দাবিগুলো নিষ্পত্তির পর নির্দিষ্টকরণ বিল পাসের মাধ্যমে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন করে সংসদ। বড় বরাদ্দ যেসব খাতে নির্দিষ্টকরণ বিলের তফসিল অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি অর্থ রাখা হয়েছে অর্থ বিভাগের জন্য। এ খাতে দায়যুক্ত ব্যয় ও সংসদে ভোটে গৃহীত মঞ্জুরি মিলিয়ে মোট ৮ লাখ ৩০ হাজার ৫৫১ কোটি ৯৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এরপর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬৯ হাজার ২৪৮ কোটি ৯১ লাখ ৬২ হাজার টাকা। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য রাখা হয়েছে ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জন্য বরাদ্দ ৪৯ হাজার ৩৮৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য রাখা হয়েছে ৪৬ হাজার ৭৩৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪২ হাজার ৪৯৭ কোটি ৪৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্য ৪০ হাজার ২৪৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জন্য ৩৬ হাজার ৯১৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, পরিকল্পনা বিভাগের জন্য ৩৬ হাজার ২৫১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩২ হাজার ৪১৪ কোটি ৫৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩১ হাজার ৯৮ কোটি ৮৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ৩০ হাজার ৪৪২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের জন্য রাখা হয়েছে ২৮ হাজার ৮৮১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। বিদ্যুৎ বিভাগের জন্য ১৪ হাজার ৯৯৬ কোটি ২ লাখ টাকা এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের জন্য ২ হাজার ৩৪৯ কোটি ২ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য বরাদ্দ ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের জন্য বরাদ্দ ১৩ হাজার ৪৬৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। নতুন বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৪৭ শতাংশ বেশি।
এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার ৩ লাখ কোটি টাকা, যা আগেই অনুমোদন করা হয়েছে। উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ মোট বাজেটের ২৭ দশমিক ২৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৩ দশমিক ৭০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করেছিলেন অর্থমন্ত্রী।
পরিচালন ব্যয়ের অংশ ৭২ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬৬ দশমিক ৩০ শতাংশে নামানোর কথা তিনি বলেন। খাদ্য হিসাব, ঋণ ও অগ্রিম, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং কাঠামোগত সমন্বয় বাদে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত অনুন্নয়ন বাজেটের চেয়ে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা যাবে সরকারের দেশি-বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে। আর প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যয় ধরা হয়েছে অন্তত ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। নতুন অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এই অংক বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত রাজস্ব আয়ের চেয়ে ১৮ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে। ফলে এনবিআরের কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ছে ২০ শতাংশের বেশি। গতবারের মত এবারও সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট থেকে। এ খাতে ২ লাখ ২৮ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে। আয়কর ও মুনাফার ওপর কর থেকে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার আশা করা হয়েছে।
নতুন বাজেটে আমদানি শুল্ক থেকে ৬১ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা, সম্পূরক শুল্ক থেকে ৮২ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা, রপ্তানি শুল্ক থেকে ৯৯ কোটি টাকা, আবগারি শুল্ক থেকে ৭ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা এবং অন্যান্য কর ও শুল্ক থেকে ৩ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া বিদেশি অনুদান থেকে ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকা পাওয়ার আশা করছে সরকার। নতুন বাজেটে আয় ও ব্যয়ের সামগ্রিক ঘাটতি থাকছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশের সমান। ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বাজেট প্রস্তাবে বিদেশি উৎস থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যও ধরা হয়েছে। বিদায়ী অর্থবছরে অন্তর্বর্তী সরকার ৫ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরেছিল। তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাময়িক হিসাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার হতে পারে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা ১০ মাস মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের বেশি ছিল। সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কৌশলে তা এক অংকের ঘরে নামলেও এখনও তা ৯ শতাংশের বেশি। মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। এই প্রেক্ষাপটে নতুন অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে। অর্থ বিলে ৬৪ সংশোধনী এর আগে সোমবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের জন্য আনা অর্থ বিল, ২০২৬ পাস হয়। জনমত যাচাইয়ে পাঠানোর প্রস্তাব নাকচ করার পর বিলের বিভিন্ন দফা ও তফসিলে ৬৪টি সংশোধনী গৃহীত হয়।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ, বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং শুধু তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষাদানে নিয়োজিত বেসরকারি কলেজের আয়ের ওপর করহার ৫ শতাংশ করা হয়েছে। বাজেট প্রস্তাবে ব্যাংক হিসাব খোলা, বণ্টননামা দলিল নিবন্ধন এবং সম্পত্তি নামজারির ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব ছিল। জনমনে বিভ্রান্তির কথা তুলে এসব প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়। বিনা প্রশ্নে ফ্ল্যাট ও প্লটের প্রকৃত মূল্য আয়কর নথিতে দেখানোর সুযোগও প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের চলতি হিসাব বা এসটিডি হিসাব খোলা ও পরিচালনা, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়া, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মার্চেন্ট হিসাব খোলা, বাণিজ্য সংগঠনের সদস্যপদ নেওয়া বা নবায়ন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ নেওয়া এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে যানবাহন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিআইএন বা তালিকাভুক্তির প্রমাণক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব সংশোধনীতে যুক্ত হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ
ফেসবুক পেজ