কাগজ প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ায় মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট সৌরভ ও আরিফুলের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার দাবিতে মানব বন্ধন করেছেন চিকিৎসক নার্স টেকনোলজিষ্টসহ জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বোচ্চ হতে নি¤œস্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলসহ মেডিকেল ট্রেনিং ইন্সষ্টিটিউটের সামনে গিয়ে মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা: শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন, জেনারেল হাসপাতালের উপপরিচালক ডা: আব্দুল মান্নান, সহকারী পরিচালক ডা: মো: নাসির উদ্দিন, ডক্টর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ড্যাব সভাপতি ডা: ফজলুল হক, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: ইকবাল হাসানসহ হাসপাতালের সকল চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ।
দিনের এই গুরুত্বপূর্ন সময়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আন্ত:বিভাগ ও বর্হিবিভাগে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ে। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, উনাদের উপর সন্ত্রাসী হামলায় যারা জড়িত তাদের গ্রেফতার করবে আইন শৃংখলা বাহিনী। সেই প্রশাসনের উপর চাপ সৃষ্টি করুন। অসহায় রোগীদের সেবাকে জিম্মি করে উনারা দাবি আদায় করতে চান। আমরাও চাই, চিকিৎসকরা যেনো কর্মস্থলে নিরাপদে কাজ করতে পারেন। সেই ব্যবস্থা করুক প্রশাসন।
হামলার শিকার কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট সৌরভ হোসেন (৪০)র অভিযোগ গত সোমবার দুপুর আড়াই টায় ডিউটি শেষে হাসপাতাল থেকে মোটরসাইকেল যোগে সহকর্মী আরিফুলসহ নিজ বাড়ি ভেড়ামারার উদ্দেশে রওনা দেয়ার পর হাসপাতাল সড়কস্থ প্রধান ডাকঘরের সম্মুখে পৌছালে পিছন থেকে ৩টি মোটরসাইকেল আরোহী ৭/৮ জন হেলমেটধারী লোক এসে পথরোধ করে। এ সময় তাদের সাথে থাকা প্লাষ্টিকের বাজার করা ব্যগ হতে রডসহ দেশীয় অস্ত্র বের করে আমাদের দু’জনকে বেধড়ক মারপিট করে আমাদের রক্তাক্ত জখম করে। এসময় উপায়ান্তর না পেয়ে আমরা মোটর সাইকেল নিয়ে দ্রুতগতিতে মজমপুর গেটের দিনে চলে যায়। হামলাকারী সন্ত্রাসীরাও আমাদের পিছু ধাওয়া করে এবং আমাদের মেরে ফেলা হবে বলে চিৎকার করে বলতে থাকে। িিকছুক্ষন পর সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে আমি ও সহকর্মী আরিফুল হাসপতাতে এসে চিকিৎসা গ্রহন করি। এখন আমি প্রাণভয়ে চরম আতঙ্কিত। বিষয়টি জানিয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় অজ্ঞাত ৭/৮জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। দ্রুত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার দাবি করছি।
মানব বন্ধন চলাকালে ২৫০ শয্যা বিশিস্ট জেনারেল হাসপাতালের উপপরিচালক ডা: আব্দুল মান্নান বলেন, ‘নিজ কর্মস্থলের সন্নিকটেই যদি চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীরা সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন তাহলে আমাদের নিরাপদ কর্মস্থল আর থাকলো কোথায় ?’ গতকালে ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় লিখিত এজাহার দেয়া হয়েছে অথচ ঘটনার ২৪ ঘন্টা পরও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। সেকারণেই নিজেদের নিরাপত্তাহীন ঝুঁকিপূর্ন কর্মস্থলের নিরাপত্তার দাবি নিয়ে রাজপথে দাঁড়াতে হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকসহ সব স্তরের স্বাস্থ্য সেবা কর্মীরা যদি অনিরাপদ থাকে তাহলে আমার নিরাপত্তা থাকবে কি করে ? এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহনের জন্য জেলা প্রশাসক এবং কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণসহ অনুরোধ করা হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা: শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘স্বাস্থ্য সেবা কর্মীরা কর্মস্থলে নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবি নিয়ে আজকে দাড়িয়েছে আমি এটার সহিত একমত বলেই সংহতি জানাতে দাঁড়িয়েছি’।
ড্যাব নেতা ডা: ফজলুল হক বলেন, ‘স্বাস্থ্য কর্মীরা একের পর এক হামলা নির্যাতনের শিকার হলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেয়ার কারনে প্রতিটা ঘটনার পরই জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবিতে রাস্তায় নামতে হয়, এটা অত্যন্ত দু:খজনক’। এতে কাঙ্খিত স্বাস্থ্যসেবাও ব্যহত হয়’।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, ‘গতকাল হাসপাতাল রোডে দুইজন স্বাস্থ্যকর্মীর উপর হামলার ঘটনায় সৌরভ হোসেন নামে একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অজ্ঞাত ৭/৮জনের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এনে এজাহার দিয়েছে। এজাহারে হামলাকারী কারো নাম না থাকায় বিষয়টি তদন্তে পুলিশ কাজ করছে, ইতোমধ্যে আশপাশের সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে হামলায় জড়িতদের সনাক্ত করার জন্য। দুই একজনকে সনাক্ত তরে গ্রেপ্তার করলেই বাকি সকলে নাম বেড়িয়ে আসবে। সেকারনে মালাটি এখনও নতিভুক্ত হয়নি। তবে জড়িতদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ। কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মো: তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, ‘গতকালই চিকিৎসকরা এসেছিলেন, তাদের সাথে কথা হওয়ার পরই হামলার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপারের সাথে কথা হয়েছে। তিনি এঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানিয়েছেন’।


