মিরপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সীমিত জনবল ও চলমান সংস্কার কাজের মধ্যেও প্রতিদিন শত শত রোগীকে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হচ্ছে। বহি:বিভাগ, জরুরি বিভাগ, ভর্তি রোগী, অস্ত্রোপচার, রোগ নির্ণয় ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসহ নানা সেবার মাধ্যমে হাসপাতালটি ইতিমধ্যে উপজেলার মানুষের আস্থার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন বহি:বিভাগে গড়ে ৪শ’ থেকে সাড়ে ৪শ’ জন রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করে থাকে। এছাড়াও প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ জন নতুন রোগী ভর্তি হলেও ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেন, যা হাসপাতালটির সেবার ওপর বাড়তি চাপেরই প্রমাণ। হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১শ’ জন রোগীকে সেবা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে দুই দিন সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। চক্ষু বিভাগে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের দাঁতের রোগের চিকিৎসা নিয়মিত প্রদান করা হচ্ছে। রোগ নির্ণয়ের জন্য হাসপাতালে ইসিজি, এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাফি এবং বিভিন্ন ধরনের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা রয়েছে। এছাড়া কুকুর ও সাপের কামড়ের ভ্যাকসিন প্রতিদিন সরবরাহ ও প্রয়োগ করা হয়। হাসপাতালটিতে পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডের পাশাপাশি শিশু ওয়ার্ড, ডায়রিয়া ওয়ার্ড এবং আইসোলেশন ওয়ার্ড রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক রোগীদের জন্য এনসিডি কর্নার চালু রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ জন ডায়াবেটিস্ ও উচ্চ রক্তচাপের ঔষধ ও চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আগাম প্রস্তুতিও রয়েছে। মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ পিযুষ কুমার সাহা বলেন, বর্তমানে হাসপাতালের সংস্কার কাজ চলমান থাকায় কিছু স্থানে সাময়িক অগোছালো পরিবেশ দেখা গেলেও সার্বিকভাবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হচ্ছে এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ পরিচালিত হচ্ছে। তবে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর চরম সংকটের কারণে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেবাদানে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সংকট দূর হলে হাসপাতালের সেবার মান আরও উন্নত হবে এবং রোগীরা দ্রুত ও মানসম্মত সেবা পাবেন। স্বল্প জনবল ও সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে মিরপুর ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উপজেলার সাধারণ মানুষের নির্ভরতার অন্যতম প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার সদরপুরের শাহানা পারভীন বলেন, যেকোন ধরনের রোগের সেবা হাসপাতালে নিতে আসলে আমরা তাৎক্ষনিক সেবা পাচ্ছি। সেবার মান আগের তুলনায় অনেক ভাল। অন্যদিকে আমলা ইউনিয়নের শাহাদুল ইসলাম বলেন, বাহিরের ক্লিনিকগুলোতে টেষ্ট করতে অনেক টাকা খরচ হতো। এখানে নামমাত্র ফিস দিয়ে প্রায় সংখ্যক পরীক্ষা করানো যাচ্ছে। তাতে আমাদের মত গরীব ভূক্তভোগীরা অনেক উপকৃত হচ্ছে। এবং বেশির ভাগ সরকারী ঔষধ এখান থেকে বিনামূল্যে পাচ্ছি।


