বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
সদ্যপ্রাপ্ত
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
সংসদে প্রধানমন্ত্রী দেশ পুনর্গঠনে ঘুরে দাঁড়ানোর বিকল্প নেই
/ ৩১ দেখা হয়েছে
বার : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৩:২৫ অপরাহ্ন

এনএনবি : দেশ পুনর্গঠনে ঘুরে দাঁড়ানোর বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সকালে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘‘সরকার তার সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণের পথে এগিয়ে চলছে। তবে এটি বহু কঠিন একটি পথ। বাংলাদেশের মানুষ আমরা প্রত্যেকে গ্রামগঞ্জে ঘোরা মানুষ, মানুষের সঙ্গে ওঠা-বসা করা মানুষ আমরা। বাংলাদেশের মানুষ পরিশ্রমী মানুষ, যা আমরা নিজেদের চোখে দেখেছি। আমাদের তরুণ-সমাজ মেধাবী; কৃষকরা উৎপাদনশীল; প্রবাসীরা দেশপ্রেমিক এবং আমাদের উদ্যোক্তারা সম্ভাবনাময়। সুতরাং আমাদের ঘুরে দাঁড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই।”
সংসদ সদস্যদের মুহুর্মুহু টেবিল চাপড়ানোর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি এই মহান সংসদের সব সদস্যকে আহ্বান জানিয়ে বলতে চাই, এই বাজেট শুধু সরকারের বাজেট হিসেবে নয়, আসুন আমরা সকলে এ বাজেটকে একটি পুনর্গঠনের বাজেট হিসেবে দেখার চেষ্টা করি।” সংসদ নেতা বলেন, “আমি বলতে চাই, আমাদের মধ্যে মতভেদ থাকতেই পারে। কিন্তু দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার; জনগণের কষ্ট লাঘব; আর্থিক খাতে আস্থা ফেরানো; কৃষক, শ্রমিক, তরুণ, নারী ও প্রবাসী উদ্যোক্তাদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার প্রশ্নে আমরা সকলে ইনশাল্লাহ ঐক্যবদ্ধ থাকব। এই বাংলাদেশে আর যেন কোনো ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার কায়েম হতে না পারে, এই বাংলাদেশকে যেন আর কেউ তাদের তাবেদার রাষ্ট্র বানাতে না পারে, এই হোক আমাদের আজকের প্রত্যয়।” চাকরির জন্য তরুণদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে যেখানে তরুণদের চাকরির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না, তারা নিজেরাই নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে বিরোধী দলের নেতার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, আমরা দেশের এই অর্থনৈতিক সংকটকে অস্বীকার করতে চাই না, তবে সংকটকে কোনো অজুহাত হিসেবেও ব্যবহার করব না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতির মাধ্যমে এই সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করা হবে। সরকারের যাত্রালগ্ন থেকেই রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সংকটের কারণে যে বিশাল চাপ তৈরি হয়েছিল, তা দেশের সাধারণ মানুষও বুঝতে পেরেছে। এমন একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও বহুমুখী সংকটকে সামনে রেখেই এই বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি এক অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ তাদের যে পবিত্র দায়িত্ব দিয়েছে, তা রক্ষা করতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং সরকারের মূল দর্শন হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’। গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা শিরোনামে উপস্থাপিত এবারের বাজেটটি শুধু বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং অর্থনীতিকে একটি নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর রূপকল্প বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নয় লাখ আটত্রিশ হাজার কোটি টাকার এই বাজেটের অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো অর্থনীতিকে মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীদের কবল থেকে বের করে এনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। দেশের সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও, বিনিয়োগ ও উৎপাদনের চাকা বেগবান করতে উন্নয়ন ব্যয় পঞ্চাশ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি করে তিন লাখ ষোল হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। সরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রকল্পের পেছনে কত টাকা ব্যয় হলো তা বড় বিষয় নয়, বরং সেই প্রকল্প মানুষের জীবনে কী ভূমিকা রাখবে এবং কতটা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, সেটিই সরকারের মূল বিবেচনা। অর্থনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নে সরকারের তিনটি ধাপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথম ধাপে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে রাজস্ব সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণ করা হবে। আর চূড়ান্ত ধাপে উৎপাদনশীল ও উদ্ভাবননির্ভর প্রতিযোগিতাপূর্ণ অর্থনীতির ভিত সুদৃঢ় করা হবে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়লেই প্রকৃত উন্নয়ন হয় না, প্রকৃত উন্নয়ন তখনই হয় যখন সাধারণ মানুষের ঘরে স্বস্তি আসে এবং তরুণরা যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পায়। ঋণনির্ভর নয়, বরং উৎপাদন ও বিনিয়োগনির্ভর এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে যেখানে তরুণদের চাকরির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। দেশীয় শিল্পের বিকাশ, রুগ্ন শিল্প কারখানা পুনরুজ্জীবিত করা এবং নতুন শিল্পাঞ্চল ভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে একটি রপ্তানিমুখী ও উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান বলেন, পুঁজিবাজারে কারসাজির মাধ্যমে মানুষের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এমনকি অনেকে সর্বস্ব হারিয়ে আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীদের কবল থেকে অর্থনীতিকে মুক্ত করে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পেয়েছিলাম। দুর্নীতি, লুটপাট এবং ভুল নীতির কারণে অর্থনৈতিক খাত সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিল। হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। তিনি বলেন, আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে বিনিয়োগের বিকল্প নেই। এ কারণেই আমরা উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি করে ৩ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করেছি। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের প্রধান বিবেচনা হলোÑ প্রকল্পটি মানুষের জীবনে কী ভূমিকা রাখবে, কতটা কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং পরিবেশের ওপর কী প্রভাব ফেলবে। আমরা ঋণনির্ভর নয়, বরং উৎপাদন ও বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়তে চাই। তিনি বলেন, শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়লেই প্রকৃত উন্নয়ন হয় না। উন্নয়ন তখনই সার্থক হয় যখন সাধারণ মানুষের ঘরে স্বস্তি আসে। যখন দরিদ্র মানুষ সামাজিক সুরক্ষা পায়, তরুণরা যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পায় এবং কৃষক তার ফসলের ন্যায্যমূল্য পায়। আমরা এমন একটি দেশ গড়তে চাই যেখানে উদ্যোক্তারা হয়রানি ছাড়া ব্যবসা করতে পারবেন এবং আমানতকারীরা তাদের অর্থের নিরাপত্তা পাবেন। দেশীয় শিল্পের বিকাশে বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প কারখানাগুলো চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন শিল্প স্থাপনে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলছে। ভোলা জেলা প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের সূত্র ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোলায় যে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া গেছে, তাকে কেন্দ্র করে সেখানে একটি বিশাল ‘শিল্প পার্ক’ তৈরির পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের আমূল পরিবর্তন ঘটবে। এছাড়া ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা যেন সহজে ফান্ডিং বা লোন পেতে পারেন, সেজন্য আইনকানুন সহজ করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ
ফেসবুক পেজ