ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া গায়েবী মসজিদ সংলগ্ন একটি বিবাদমান জমিতে আদালতের স্থিতাবস্থা (নিষেধাজ্ঞা) অমান্য করে জোরপূর্বক গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক মাজারের পীর ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিলে তদন্তে গিয়ে উল্টো ভুক্তভোগী বাদীপক্ষের সাথে পুলিশ কর্মকর্তা চরম দুর্ব্যবহার করেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাতবাড়িয়া গায়েবী মসজিদের সন্নিকটে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল বারী ও আক্কাস আলীর মালিকানাধীন জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। জমিটি নিয়ে বর্তমানে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে বিজ্ঞ আদালত উভয় পক্ষকে উক্ত জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখা এবং সংযম প্রদর্শনের নির্দেশ প্রদান করেন।অভিযোগে জানা যায়, আদালতের এই স্পষ্ট নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আজ সোমবার দুপুরে পার্শ্ববর্তী মাজারের পীর সালাম ফকির তার সঙ্গী ও একদল লোকজন নিয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে উক্ত জমিতে প্রবেশ করেন। তারা জোরপূর্বক জমির বেশ কিছু মূল্যবান গাছ কেটে নিয়ে যান। বাদীপক্ষ বাধা দিতে গেলে সালাম ফকির ও তার গংরা তাদের প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ায় আব্দুল বারী ও আক্কাস আলীর পরিবারের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:এই বর্বরোচিত ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার জানমালের নিরাপত্তা ও প্রতিকার চেয়ে অবিলম্বে ভেড়ামারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভেড়ামারা থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সাইদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান।ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, এএসআই সাইদুল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিবাদী সালাম ফকিরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া বা গাছ কাটার কারণ জিজ্ঞাসা করার পরিবর্তে উল্টো বাদীপক্ষের লোকজনের ওপর চড়াও হন। তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেন এবং তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করেন। পুলিশের এমন পক্ষপাতদুষ্ট ও অপেশাদার আচরণে ক্ষুব্ধ স্থানীয় এলাকাবাসী। তবে ভেড়ামারা থানার এএসআই সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিজ্ঞ আদালতের দেয়া ১৪৪ ধারা মোতাবেক দুই পক্ষকেই স্ব-অবস্থান থাকতে বলা হয়েছে। ভূমিদস্যুদের এমন বেআইনি তাণ্ডব এবং রক্ষকের ভূমিকায় থাকা পুলিশের এমন প্রশ্নবিদ্ধ আচরণে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন আব্দুল বারী ও আক্কাস আলীর পরিবার। তারা আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন, কাটা গাছের ক্ষতিপূরণ উদ্ধার এবং অভিযুক্ত সালাম ফকিরসহ ক্ষমতার অপব্যবহারকারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ জায়েদুর রহমান বলেন, যদি কোনো পুলিশ সদস্য অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত থাকে তাহলে কোনো প্রকার ছাড় হবে না। ১৪৪ ধারা ধার্য্যকৃত জমিজমার বিষয়ে দুপক্ষের বিবাদমান শত্রুতাই পুলিশ কে জড়িয়ে করা মন্তব্য সঠিক নয়।


