কাগজ প্রতিবেদক ॥ ২৭ জুন, ২০২৬॥মার্কিন-বাংলাদেশ গোলামী চুক্তি বাতিল, নাগরিক জীবনের জানমালের নিরাপত্তাসহ বিভিন্নদাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি কুষ্টিয়া। শনিবারবেলা ১১ টায় কুষ্টিয়া পৌরসভার বিজয় উল্লাস চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একতারা মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে অবিলম্বে মার্কিন-বাংলাদেশ গোলামী চুক্তি বাতিলসহ বিভিন্ন দাবিতে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, “পূর্ববর্তী অন্তবর্তী সরকার অবৈধভাবে করে যাওয়া মার্কিন-বাংলাদেশ অসম বানিজ্যচুক্তি কে রেখে, বর্তমান সরকার পার্লামেন্টে তা আলোচনা না করে চুক্তি নিয়ে যেভাবে লুকোচুরি খেলছে তা ’এদেশের জনগণ মেনে নেবে না। চুক্তির নামে বিভিন্ন ধারা উপধারা যেভাবে মার্কিন কর্তৃত্ব দেখানো হয়েছে তাতে অর্থনীতি স্বাধীনতা, সর্বভৌমত্ব ক্ষুন্ন হবে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে এদেশের মানুষ পাকিস্তানী উপনিবেশিকতায় জাল ছিড়ে দেশ স্বাধীন করেছিল। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ সেদিনও সপ্তম নৌ বহর পাঠিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা নস্যাৎ করতে চেয়েছিলো, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর মেটিকুলাস ডিজাইন করে মার্কিন বাংলাদেশ অসম চুক্তির মাধ্যমে পুন: উপনিবেশ করার অপচেষ্টা হচ্ছে। এদেশে ধর্মাশ্রয়ী ফ্যাসিবাদ শক্তি ও মার্কিন অপশক্তিসহ দক্ষিণপন্থী শক্তির সম্মিলিত চেষ্টা রয়েছে এদেশে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ঘাটির ভিত্তি তৈরী করা। সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বাংলাদেশের জনগণকে স্বাধীনতা সার্বভৌম রক্ষার সংগ্রামে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।”
মমাবেশে বক্তব্য রাখেন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড মজিবুর রহমান, জেলা সভাপতি কমরেড ফজলুল হক বুলবুল, জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সদস্য কমরেড হাফিজ সরকার, জেলা সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য কমরেড আবদুল হক, প্রবীণ কৃষক নেতা কমরেড গুজরত আলী মোল্লা, জাতীয় কৃষক সমিতির সভাপতি এসরারুল হক, জাতীয় কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক লুতফুল হক পাপ্পানা, গনতান্ত্রিক শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা বিল্লাল হোসেন, যুবনেতা, ওহিদুল, মোখলেস, উজ্জ্বল, মনিরুল, যুবায়ের সবুজ মন্ডল প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন শহর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন।
বিক্ষোভ সমাবেশে মার্কিন – বাংলাদেশ অসম চুক্তি বাতিল, জননেতা রাশেদ খান মেননের মুক্তি, কৃষকের ফসলের ন্যায্য মুল্য নির্ধারণ, চাল ডাল তেল সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমানো, বন্ধ মিল কারখানায় চালু করে কর্মসংস্থান করা, বর্ধিত বিদ্যুৎ, ডিজেল ও তেলের দাম কমানো, সার বীজ কীটনাশকের দাম কমানোর দাবী করেন। সেই সাথে একটি মহল দেশকে জংগীদাদের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত করছে তা রুখে দিতে সমস্ত জনগণকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানান।


