দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করে সন্তানকে এই পৃথিবীর আলো দেখিয়েছে একজন গর্ভধারিনী মা, পাশাপাশি বাবা জন্মের পর থেকেই চিন্তা করে সন্তান যেন জীবনে প্রতিটা মুহূর্ত সফল হতে পারে এবং এর জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে যাই পৃথিবীর সকল বাবা। কিন্তুু অনেকের ক্ষেত্রে সেটা না হলেও পাষন্ড কিছু পুত্রবধূর কারণে বিপাকে পড়ে যায় অনেক পরিবার। তেমনি একটি ঘটনা ঘটেছে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার রিফাইতপুর ইউনি। সরজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে রিফাইতপুর ইউনিয়নের সরকার পাড়ার বাসিন্দা মকলেসুর রহমানের ছেলে সাইদুর রহমানের ক্ষেত্রে। সাইদুর রহমান পারিবারিকভাবেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় একই ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের রেজাউল আলীর মেয়ে রানী আক্তারের সাথে।
বিয়ের পরবর্তী সময়ে সাইদুর রহমান ও রানী আক্তারের দাম্পত্য জীবন কিছুদিন ভালো ভাবে কাটলেও ছেলে সাইদুর রহমান কর্তৃক বাবা মাকে দেখভালের কারণে তা আর সম্ভব হয়নি, এক পর্যায়ে সংসারে নেমে আসে চরম অশান্তি ও বিশ্বাস হীনতার।
এমন অবস্থায় নানা চেষ্টার মধ্যে দিন মাস বছর পেরিয়ে গেলেও সাইদুর রহমানের বাবা মায়ের সাথে বনি বনা করে উঠতে পারেনি স্ত্রী রানী আক্তার। সাইদুর রহমানের বাবা মা-ই যেন দুই চোখের বিষ হয়ে ওঠে রানী আক্তার এর কাছে। চাকরির সুবাদে সাইদুর রহমান প্রতিমাসে যে বেতন ভাতা পাই তা থেকে তার বাবা মাকে মাসিক ভরণপোষণের খরচ দিলেই বাঁধে নানা ধরনের বিপত্তি, পাশাপাশি সংসারে নেমে আসে প্রতি মাসে নতুন করে নতুন নতুন অশান্তি। সংসারে এ সকল অশান্তি নিয়ে বারবার পারিবারিক, স্থানীয় ও সামাজিকভাবে বসেও নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি রানী আক্তার কে।
সাইদুর রহমানের পরিবারের লোকজন অভিযোগ করে বলেন, রানী আক্তার বিয়ের পর থেকেই বেপরোয়া ভাবে চলাফেরা করতে বেশি পছন্দ করত, তার বেপরোয়া চলাফেরার কারণেই প্রথম সংসার ভেঙ্গে যায়। পরে সাইদুর রহমানের সাথে বিয়ে হলে পুনরায় সেই একই নিয়মে চলাফেরা করে ও পরিবারের মধ্যে অশান্তি লাগিয়ে রাখে রানী আক্তার । গ্রামের বাড়িতে সুসজ্জিত ঘরবাড়ি থাকলেও সে তার চরিত্রগত ফায়দা লোটার জন্য অন্যের বাড়িতে ভাড়ায় থাকতেই বেশি পছন্দ করতেন।
চাকরি করে সাইদুর রহমান যে পরিমাণ বেতন ভাতা পাই তার ৯০ ভাগ রানী আক্তার কে দেওয়ার পরেও তার চাহিদার কোন শেষ হতো না। যার কারনে সে প্রতিনিয়ত মানসিকভাবে চাপে রাখতেন তার স্বামী সাইদুর রহমানকে।
এদিকে সাইদুর রহমান স্ত্রীর নিয়মিত নানা ধরনের চাপে কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন, কিন্তু বাবা-মা ও সন্তানের কথা চিন্তা করে সেই পথ থেকে তিনি সরে আসেন। সর্বশেষ ঘটনা গত ০৫/০৩/২০২৬ তারিখে রিফাইতপুর বাজারে অবস্থিত ওয়াসিফ ইলেকট্রনিক্স থেকে ১৩ হাজার টাকা জমা দিয়ে ১২ মাসের কিস্তিতে ৪৬ হাজার টাকা দামের একটি ওয়ালটন ব্র্যান্ডের ফ্রিজ ক্রয় করেন সাইদুর রহমানের বাবা মা, এ খবর জানতে পেরে রানী আক্তার তার শাশুড়ি আছিয়া খাতুন এর সাথে ঝগড়া বিবাদ লিপ্ত হয় এবং একপর্যায়ে গায়ে হাত পর্যন্ত তোলে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আছিয়া খাতুন ছেলে সাইদুর রহমানের অনুমতিতে দৌলতপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দেন। এ সকল বিষয় নিয়ে সাইদুর রহমানের দিন দিন মানসিক চিন্তা বেড়ে যাই, বাবা মায়ের সাথে অশোভন আচরণ,মানতে না পেরে স্ত্রীকে রানী আক্তার কে ৩১/০৩/২০২৬ তারিখে খুলনা জজকোর্টে উপস্থিত হয়ে নোটারি পাবলিক এর কার্যালয় খুলনায় মাতা পিতার সহিত থাকিতে চাইনা, আলাদা বাসায় থাকিতে চাপ প্রয়োগ করা,কথায় কথায় চাকরিতে অভিযোগ দেওয়ার ভয় এবং বিভিন্ন প্রকার মামলা-মোকদ্দমার ভয় দেখানো, অবাধ্য আচরণ শরীয়তের বিধিবিধান অমান্য করা, বৈধ আদেশ-নিষেধ না মানা, উশৃংখল জীবন যাপন, পিতা-মাতার দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি, পরিবারের সকলের সাথে দুর্ব্যবহার অকথ্য গালাগালি ভাষায় গালাগালি, ঘর জামাই হিসেবে থাকার চাপ প্রয়োগ,তাহার আত্মহত্যা প্রবণতা ও নিজের শারীরিক ক্ষতি করে ফাঁসানোর চেষ্টা, প্রাণনাশের ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন, গভীর রাত পর্যন্ত বাইরে অবস্থান, পরপুরুষে আসক্তি, বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি সহ মাঝেমাঝে কয়েক দিনের জন্য নিরুদ্দেশ থাকা, সহ নানাবিধ উশৃংখলতা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ উল্লেখ করে, এবং স্ত্রী রানী আক্তারের বেপরোয়া আচরণ সংশোধন করতে না পারাই ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশ ৭(১) ধারায় বর্ণিত নিয়ম মোতাবেক স্ত্রী রানী আক্তার কে একতরফা তালাক প্রদান করেন সাইদুর রহমান। এমন অবস্থায় তালাক প্রদানের পরবর্তীতে সেই পুরনো আচরণে রানী আক্তার নানাভাবে সাইদুর রহমানকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য নানা ধরনের নীল নকশা একে চলেছে। গণমাধ্যম কর্মীদের ভুলভাল তথ্য দিয়ে দেশবাসীর কাছে সাইদুর রহমানকে অপরাধী সাব্যস্ত করতে নানারকম কুট কৌশল অবলম্বন করছে। এ সকল বিষয় নিয়ে সাইদুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, বিয়ের পর থেকেই নানাভাবে আমার স্ত্রী রানী আক্তার, আমাকে আমার বাবা-মা থেকে আলাদা করার ষড়যন্ত্র করে এসেছে, আমাদের দাম্পত্য জীবনে সন্তান জন্মদানের পরে সন্তানদের মুখের দিকে চেয়ে তার সকল অন্যায় আবদার আমি মেনে নিয়েছিলাম কিন্তু সে আমার বাবা মার সাথে দুর্ব্যবহার করে তার সীমালংঘন করেছে। যার কারনে আইনসঙ্গতভাবে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে আমি তাকে তালাক প্রদান করি। আইন অনুযায়ী তার সাথে এখন আমার আর কোন সম্পর্ক নেই তারপরেও সে নানাভাবে আমার ক্ষতি করবে মর্মে বিভিন্ন ফন্দি ফিকির করে চলেছে। তিনি আরো জানান আমার জন্মদাতা পিতা-মাতার সহিত আমার স্ত্রী যে অশোভন আচরণ করেছিল তা আমি মেনে নিতে পারিনি তাই তাকে নিয়ম অনুসারে আমি তালাক প্রদান করেছি। এরপরেও সে আমার বিরুদ্ধে যতরকম অভিযোগ এনেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।


