কাগজ প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার কার্যালয়ের ভেতরে এক যুবককে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। বুধবার (১৭ জুন) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত যুবকের নাম শফিকুল ইসলাম শফি (৪০)। তিনি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শেরকান্দি গ্রামের মসলেম উদ্দিনের ছেলে এবং সাবেক কাউন্সিলর এস এম রফিকের ছোট ভাই। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বেলা ১১টা ৯ মিনিটে পৌরসভার কার্যালয় চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, মেঝে ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে রক্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এসময় কুমারখালী পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহমুদ রেজা বলেন, ‘ওতটা ভালো করে দেখিনি। ধুপধাপ ধুপধাপ শব্দ শুনে বাইরে গিয়ে দেখি লুঙ্গি পরা একজনকে কয়েকজন মারধর করছে। সদ্য যোগদান করেছি। কাউকে চিনি না।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগে আহত শফিকের চিকিৎসা চলছে। মাথায় ব্যান্ডেজ। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের ক্ষত।
এসময় আহত শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘পৌরসভায় ছিলাম। এর ভেতর নয়ন, তার ছেলেসহ (আফ্রিদি) ৭-৮ জন এসে কুপায়ছে। মাথাসহ সারা শরীরে কোপের দাগ।’
আহতের মা রিজিয়া খাতুন বলেন, ‘ছেলে নাশতা খেয়ে পৌরসভার সামনে গিছিল। তখন দুর্গাপুরের নয়নরা এসে হামলা করলে শফি দৌড়ে পৌর ভবনের ভেতরে যায়। সেখান থেকেই কুপায়ছে। তবে কী কারণে কুপাল তা জানা যায়নি।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত নয়ন হোসেন পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গাপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুর রহমানের ছেলে। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে পদ-পদবি জানা যায়নি।
অভিযোগ অস্বীকার করে নয়ন হোসেন বলেন, ‘আমি এসবে জড়িত নই। ও (শফি) সন্ত্রাসী। অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। নেশাদ্রব্য বিক্রি করে। ওর কাছে যাবি কিডা। ও পৌরসভায় যেয়ে সন্ত্রাসীগিরি করতেছে। মানুষকে থ্রেটমেট করতেছে। হয়তো জনগণ ধরে মারেছে (মেরেছে)।’
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরে মারধরের ঘটনা ঘটতে পারে। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছিল। আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


