কাগজ প্রতিবেদক ॥ দেশব্যাপী নারী ও শিশু ধর্ষণ মহামারির লাগাম ধরতে আইগত গুরুত্বপূর্ন বিষয় ভিত্তিক সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবিতে মানব বন্ধন করেছে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ট্রাষ্ট ব্লাস্ট এর আয়োজনে মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী সমিতির সামনে এই মানব বন্ধনে জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দসহ শতাধিক আইনজীবী অংশ গ্রহন করেন। এসময় ধর্ষন আইন সংস্কার জোট কুষ্টিয়া জেলার নেতৃবৃন্দ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পাওয়া ধর্ষণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা, ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা, সার্বিক সুরক্ষা ও যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতকরণে দাবি করেন ‘রেপ ল’ রিফর্ম কোয়ালিশন’ (জখজঈ)। মানববন্ধনে কোয়ালিশনের প্রতিনিধিরা তাদের ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন। প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ: বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মামলার রায় ঘোষণা। ভুক্তভোগীর সার্বিক সুরক্ষা: মামলার তদন্ত ও বিচার চলাকালীন ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের শতভাগ নিরাপত্তা দেওয়া। যথাযথ ক্ষতিপূরণ: রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে পর্যাপ্ত আর্থিক ও মানসিক ক্ষতিপূরণ প্রদান। আইনি সংস্কার: ঔপনিবেশিক আমলের সাক্ষ্য আইনের বিতর্কিত ধারা সংশোধন করে ভুক্তভোগীর চরিত্র হনন বন্ধ করা। চিকিৎসা ও পুনর্বাসন: সরকারি খরচে ভুক্তভোগীদের আধুনিক চিকিৎসা এবং মানসিক ট্রমা কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা। কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন- জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড শেখ মো: আবু সাইদ, সাধারন সম্পাদক এ্যাড. শাতিল মাহমুদ, ব্লাস্ট সমন্বয়ক এ্যাড. শংকর মজুমদার, জেলা ও দায়রা জজ বিশেষ আদালতের সরকারী কৌসুলি এ্যাড. শামীমুল হাসান অপু, ব্লাস্ট পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি এ্যাড.ম আআমস আকতারুজ্জামান মাসুম সহ সহ (জখজঈ) এর সদস্যগন স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী, ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা । বক্তারা বলেন, আইনের ফাঁকফোকর এবং ধীরগতির বিচার প্রক্রিয়ার কারণে একের পর এক পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। ফলে দিন দিন এই সামাজিক মহামরি বেড়েই চলেছে। অবিলম্বে জখজঈ – এর ১০ দফা দাবির বাস্তবায়ন করে দেশে নারীবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।


