বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা থেকে ॥ আলমডাঙ্গার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আবেগঘন বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি একদিকে যেমন বিএনপির সাংগঠনিক শক্তির প্রশংসা করেছেন, অন্যদিকে দলীয় বিভক্তি, অপপ্রচার এবং দুস্থ মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ঈদ সহায়তার অর্থ বণ্টন নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন।
শনিবার (৬ জুন) বিকেল ৪টায় আলমডাঙ্গা উপজেলা মঞ্চে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “দুস্থ মানুষের জন্য ঈদে ১০ লাখ টাকা এসেছিল। কে কোথায় পেয়েছে, তা আমরা কেউ জানি না। এই কোরবানির ঈদেও টাকা এসেছে। কে কোথায়, কীভাবে পেয়েছে, সেটাও আমরা জানি না।” তার এই বক্তব্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় রাজনীতিতে অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের বিষয়টিই তিনি পরোক্ষভাবে তুলে ধরেছেন। শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা কঠিন সময় পার করেছেন।
“আমরা বাড়িতে ঘুমাতে পারিনি। এত প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও বিএনপি আওয়ামী লীগ, জামায়াত এবং নিজেদের ভেতরের একটি গুপ্ত অংশের বিরুদ্ধে লড়াই করে ১ লাখ ৯৩ হাজার ভোট পেয়েছে। আমি গর্ববোধ করি,”— বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “বিএনপির ভোট কমেনি। কিন্তু যারা তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন, তাদের উদ্দেশে বলতে চাই— এখনও সময় আছে। ব্যক্তিস্বার্থ ভুলে গিয়ে দলকে ভালোবাসুন, ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে কাজ করুন। দল বাঁচলে আপনি বাঁচবেন।”
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দলের ভেতরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, “আজ বিএনপির নামে অপপ্রচার আওয়ামী লীগ কিংবা জামায়াতের কেউ করছে না, বিএনপিই বিএনপির বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে। দলেরই একটি অংশ বিএনপিকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার কাজে লিপ্ত।”
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন,“প্রতিটি ইউনিয়নে যেন আমরা একক প্রার্থী দিতে পারি। সমন্বয় না থাকলে আগামী দিনে এই আসন ফিরে পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।”দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার বিষয়েও কঠোর বার্তা দেন জেলা বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন,
“কোনো নেতার তাবেদারি করে বা আশ্রয়-প্রশ্রয়ে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন না। দল চেইন অব কমান্ড অনুযায়ী চলবে।”চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর শরীফুজ্জামান শরীফকে সম্মান জানিয়ে এই গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শহিদুল কাউনাইন টিলু, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রোকন, পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিন্টু এবং উপজেলা বিএনপির প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হাসিবুল হক লিপু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন জোয়ার্দ্দার।


