কৃষি প্রতিবেদক ॥ স্ট্রবেরি সাধারণত শীতপ্রধান দেশের ফল হলেও, বাংলাদেশে এর চাষ হচ্ছে ইদানীং। অক্টোবর ও নভেম্বর এ দু মাস স্ট্রবেরি চারা লাগানোর উপযুক্ত সময়। যাদের বড় পরিসরে চাষ করার মতো জায়গা নেই, তারা চাইলেই ছাদ বাগানে বা বারান্দা বাগানে খুব সহজেই স্ট্রবেরি চাষ করতে পারেন। এতে একদিকে যেমন সতেজ ফল খাওয়া যায়, অন্যদিকে তেমনি চাষাবাদের মাধ্যমে নির্মল আনন্দও পাওয়া যায়।
চাষাবাদ পদ্ধতি : যে কোনো মাটির টব বা ৫ লিটারের তেল বা পানির বোতল কেটে স্ট্রবেরি গাছ লাগানো যাবে। তেলের বোতল হলে প্রথমে বোতলটি ভালো করে ধুয়ে রৌদ্রে শুকিয়ে নিতে হবে, যেনো বোতলে কোন তেল লেগে না থাকে। এরপর বোতলের নিচে তিন/চারটি ছিদ্র করে দিতে হবে যেনো বায়ু চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকে। এরপর মাটি প্রস্তুত করে নিতে হবে। দোঁআশ মাটির সাথে কোকোপিট এবং পচা গোবর সার ও সার মিশিয়ে মাটি তৈরি করতে হবে। পচা গোবর বা জৈব সার মিক্সড করে মাটিকে উর্বর করে নিতে হবে। গোবর যদি হাতের কাছে পাওয়া না যায় তবে বাসায় ব্যবহৃত শাক সবজির উচ্ছৃষ্টাংশ পচিয়ে তা সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। স্ট্রবেরি গাছের জন্য প্রতিদিন পর্যাপ্ত রোদ প্রয়োজন। তাই টবটিকে এমন জায়গায় রাখুন যেখানে দিনে অন্তত ৬-৮ ঘণ্টা রোদ আসে। নার্সারী থেকে ভালো জাতের চারা সংগ্রহ করতে হবে। চারা লাগানোর কিছুদিনের মধ্যেই নতুন করে আরও কিছু চারা জন্মাতে থাকে, যা থেকে চারা গাছের সংখ্যা বাড়ানো যায়। পরিচর্যা : অন্যান্য গাছের মতোই স্ট্রবেরির নিয়মিত কিছু পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। আগাছা পরিষ্কার, মরা পাতা কেটে ফেলে দেয়া, মাঝে মাঝে মাটি নিড়ানি দিয়ে আলগা করে দিতে হয়। প্রতিদিন অল্প করে পানি দিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে গাছের গোড়ায় যেনো পানি জমে না থাকে। গাছে ফুল আসার পর একটু বাড়তি পরিচর্যার প্রয়োজন। গাছে ফল ধরার পর খেয়াল রাখতে হবে ফল যেনো মাটি স্পর্শ না করে। ফল মাটি স্পর্শ করলে পচে যাবার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও পাখির আক্রমণ থেকে ফলকে সাবধানে রাখার জন্য, ফুল আসার পর পরই গাছ নেট দিয়ে ঢেকে দেয়া ভালো। আর স্ট্রবেরি চাষে তেমন কোন সার এর প্রয়োজন হয় না। তবে পনেরো/বিশদিন অন্তর অন্তর সামান্য পরিমাণ ইউরিয়া সার টবের চারপাশের মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া ভালো (গাছের গোড়ায় দেয়া যাবে না, আর সার দেবার পর অবশ্যই পানি দিতে হবে)। এতে গাছ প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন পাবে এবং সসতেজ থাকবে


