কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় ছেলের বিরুদ্ধে ইউএনও’র কাছে বাবার অভিযোগ মাদকের মরণকামড়ে আরও একটি পরিবার ধ্বংসের মুখে। মাদক কেনার টাকার জন্য জন্মদাতা পিতা-মাতাকে নির্মমভাবে মারধর, ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং সবশেষে পুড়িয়ে মারার হুমকির মতো এক লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায়। নিজের মাদকাসক্ত ও অবাধ্য ছেলের হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবশেষে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন এক অসহায় পিতা। গত ১৮ মে সকালে কুমারখালীর জগন্নাথপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পিতা মো. খোকন (৪৫) উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. খোকনের ২২ বছর বয়সী ছেলে মো. সাব্বির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মকভাবে মাদকাসক্ত। নেশার টাকার জন্য সে প্রায়ই বাড়িতে বাবা-মার সাথে চরম দুর্ব্যবহার, মারধর এবং ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করে আসছিল। এমনকি মাদক কেনার টাকা যোগাতে ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে বিক্রি করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে সাব্বির। সর্বশেষ গত ১৮ মে সকালে সাব্বির তার বাবার কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। অসহায় বাবা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ছেলে সাব্বির। সে তার পিতা মো. খোকন, মা মোছা. সাবিনা খাতুন এবং তার প্রতিবন্ধী বোনের ওপর চড়াও হয় এবং তাদের এলোপাতাড়ি মারপিট করে। একপর্যায়ে সে ঘরের বেড়া ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। ভুক্তভোগী পিতা তার দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ্য করেন, ছেলে চরম মাদকাসক্ত হওয়ায় যেকোনো সময় তাদের বড় ধরনের ক্ষতি, এমনকি ঘরে আগুন লাগিয়ে দিয়ে তাদের পুড়িয়ে মারতে পারে। এই আশঙ্কায় পুরো পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। মাদকাসক্ত এই যুবকের অত্যাচার সম্পর্কে এলাকাবাসীও অবগত এবং তার ওপর চরম ক্ষুব্ধ। অসহায় পিতা মো. খোকন বলেন, এই চরম অবাধ্য ও অত্যাচারী ছেলেকে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং নিজেদের নিরাপত্তার জন্য ইউএনও’র কাছে আবেদন করেছি। সকলের কাছে আমার আকুল আবেদন আমার ছেলেকে মাদক থেকে ফিরিয়ে এনে আমার পরিবারটাকে বাঁচানোর ব্যবস্থা করুন। এ বিষয়ে নাট্যকার ও কবি লিটন আব্বাস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মাদকের ছোবল যেভাবে একটি সাজানো পরিবারকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনসহ সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে, যাতে কেউ এলাকায় মাদক ব্যবসা করতে না পারে। একই সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি সঠিকভাবে আইনের প্রয়োগ করতে হবে। তা না হলে এ দেশকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব হবে না। কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে বাবার দেওয়া একটি অভিযোগ এসেছে। মাদকাসক্ত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে প্রমাণ সাপেক্ষে আমরা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জেল-জরিমানা করতে পারি। তবে এর বাইরে কাউকে রিহ্যাবে রেখে চিকিৎসা করার মতো প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ বা ফান্ড আমাদের নেই। এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, ভুক্তভোগী পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ওই যুবককে দ্রুত আইনের আওতায় এনে সংশোধনের জন্য প্রশাসন যেন দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।


