ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ সাজিদ খানের বলে মুশফিকুর রহিম তাঁর প্রিয় স্লগ সুইপ করলেন। ডিপ মিড উইকেটে জায়গায় দাঁড়িয়ে ক্যাচ ধরলেন মোহাম্মদ আব্বাস। যেভাবে আব্বাস উদযাপন করলেন, তাতে মনে হচ্ছিল দম বন্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে পাকিস্তান।কারণ, দুই টেলএন্ডার ব্যাটার শরীফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ দ্রুত আউট হলেও মুশফিককে আউট করতে পারছিল না পাকিস্তান। শেষ ব্যাটার হিসেবে মুশফিক যখন আউট হলেন, তখন বাংলাদেশের স্কোর ১০২.২ ওভারে ৩৯০। সঙ্গে প্রথম ইনিংসের ৪৬ রানের লিড যোগ করলে সেটা হয় ৪৩৬। ৪৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে পারলে টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের কীর্তি গড়বে পাকিস্তান। ২০০৩ সালে অ্যান্টিগায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪১৮ রান তাড়া করে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে এখন পর্যন্ত এটাই সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০১৫ সালে। ১১ বছর আগে পাল্লেকেলেতে লঙ্কানদের দেওয়া ৩৭৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল পাকিস্তান। তখন পাকিস্তান করেছিল ৩ উইকেটে ৩৮২ রান। এবার সিলেটে জিতলে ১১ বছরের রেকর্ড ভাঙার পাশাপাশি সিলেটে দ্বিতীয় দল হিসেবে চতুর্থ ইনিংসে জয়ের কীর্তি গড়বে পাকিস্তান। এই মাঠে গত বছর বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল জিম্বাবুয়ে। সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়তে পাকিস্তানকেই বেছে নিলেন মুশফিকসেঞ্চুরির রেকর্ড গড়তে পাকিস্তানকেই বেছে নিলেন মুশফিক ৪৩৭ রানের পাহাড়সমান লক্ষ্যে নেমে তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে কেবল দুই ওভার ব্যাটিং করতে পেরেছে পাকিস্তান। তবে কোনো উইকেটও হারায়নি। রানের খাতাও খুলতে পারেনি সফরকারীরা। আলোকস্বল্পতার কারণে দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করে দেন আম্পায়াররা। ব্যাটিংয়ে আছেন দুই ওপেনার আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফজল। আজ সিলেটের তৃতীয় দিনটা আবর্তিত হয়েছে মুশফিককে ঘিরেই। তিনি যখন ব্যাটিংয়ে নামেন, তখন বাংলাদেশের স্কোর ২৬.৪ ওভারে ৩ উইকেটে ১১০ রান। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত (১৫) দিনের খেলা শুরুর চতুর্থ ওভারে বিদায় নেন।
পাকিস্তানের বিপক্ষে মুশফিক আজ যা করলেন, তা বাংলাদেশের আর কেউ পারেননিপাকিস্তানের বিপক্ষে মুশফিক আজ যা করলেন, তা বাংলাদেশের আর কেউ পারেননি শান্ত ফেরার পর বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ৩০.৪ ওভারে ৪ উইকেটে ১১৫ রান। লিটন দাসের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ১২৩ রানের জুটি গড়তে অবদান রাখেন মুশফিক। লিটন তুলনামূলক আক্রমণাত্মক খেললেও মুশফিক প্রথাগত টেস্ট মেজাজে খেলতে থাকেন। ৯২ বলে ৫ চারে ৬৯ রান করে লিটন বিদায় নিলে ভেঙে যায় ১৮৮ বলের এই জুটি। সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে তিন অঙ্ক ছোঁয়া হলো না তাঁর। হাসানের বলে আপার কাট করতে গিয়ে ডিপ থার্ড ম্যানে সৌদ শাকিলের হাতে বল তুলে নেন লিটন। লিটন সেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়ে ফিরলেও মুশফিক তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন ১৭৮ বলে। বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ ১৪ সেঞ্চুরি এখন মুশফিকের। ১৩ সেঞ্চুরি করে দুইয়ে মুমিনুল হক। সেঞ্চুরি করার পথে ষষ্ঠ ও সপ্তম উইকেটে মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের সঙ্গে ৩৪ ও ৭৭ রানের দুটি জুটি গড়েন মুশফিক। শেষ ব্যাটার হিসেবে মুশফিক যখন আউট হয়েছেন, তখন তাঁর নামের পাশে রান ১৩৭। ২৩৭ বলের ইনিংসে ১২ চার ও ১ ছক্কা মেরেছেন তিনি। ৪১ রানে শেষ ৩ উইকেট হারিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ১০২.২ ওভারে ৩৯০ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের খুররম শেহজাদ পেয়েছেন ৪ উইকেট। সাজিদ খান নিয়েছেন৩ উইকেট। ২ ও ১ উইকেট পেয়েছেন হাসান আলী ও আব্বাস।


