কাগজ প্রতিবেদক ॥ দীর্ঘ ১৫ বছরের দুর্নীতিতে এখনো ধুঁকছে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। নানা সংকটে বৃহৎ এ চিকিৎসালয়ে কোনো সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। প্রকল্পের শুরু থেকেই নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি হাসপাতালটি। বাজেট ও জনবল সংকট মাথায় নিয়ে এবং যন্ত্রাংশ হস্তান্তর ছাড়াই দীর্ঘ এক যুগ পর ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
হাসপতালটি চালু হলেও জনবল সংকটের কারণে কার্যক্রম নেই জরুরি বিভাগে। প্রায় দুই হাজার জনবলের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২৯৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। এত সংকটের কারণে ২৩ বিভাগের মধ্যে চালু করা সম্ভব হয়েছে মাত্র ছয়টি বিভাগ। পদে পদে এমন সংকটে রোগীদের চাপ সামলাতে ‘ক্লান্ত’ হয়ে পড়েছে এ হাসপাতালটি। হাসপাতালের তথ্য মতে, ৫০০ বেডের হাসপাতালে এখানো অর্ধেক কার্যক্রমও শুরু হয়নি। ২৩ বিভাগের বিপরীতে চালু হয়েছে মাত্র ছয় বিভাগ। বর্তমানে এ কয়েকটি বিভাগেই রোগী ভর্তি রয়েছে প্রায় ৬০০ জন। সে হিসাবে সংখ্যার চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। একই অবস্থা বহির্বিভাগেও। রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও কর্মচারীরা। প্রতিদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১২০০ থেকে ১৬০০ রোগী।
অন্যদিকে জনবল সংকটের কারণে দীর্ঘদিনেও হাসপাতালটি পুরোপুরি চালু হয়নি। জনবল ছাড়া পূর্ণাঙ্গরূপে হাসপাতাল চালু করা প্রায় অসম্ভব। অভিযোগ রয়েছে, যেসব যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে তার অনেকগুলোর প্রকৃত দর বাজারমূল্যের তুলনায় বহুগুণ বেশি দেখানো হয়েছে। কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহারের উপযোগী নয়। এমনকি কোনো ব্র্যান্ডের লোগো নেই এমন কম্পিউটার সরবরাহ করা হয়েছে। এতে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি চালু হলেও রোগীর সবরকম টেস্ট বা পরীক্ষা এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে আলট্রাসনো, এক্স-রে ও ইসিজি পরীক্ষা শুরু করা হয়েছে। তবে সিটিস্ক্যান বা এমআরআই’র মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এখনো চালু হয়নি। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. এইচএম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সমস্যা ও সংকট আছে। তবে সবকিছু দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে। তিনি বলেন, বাজেট ও জনবল সংকট সমাধানে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের যন্ত্রাংশ কয়েকদিনের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে। এতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরীক্ষা চালু করা যাবে।


